ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব এখন শেষ ধাপে। প্রতিটি ম্যাচই দলগুলোর ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এমন পরিস্থিতিতে আজ ও আগামীকাল রাতে মাঠে নামছে মহাদেশের বেশ কয়েকটি জায়ান্ট ক্লাব—বার্সেলোনা, লিভারপুল, বায়ার্ন মিউনিখসহ আরও অনেক দল। প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই।
আজ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে মাঠে নামবে গালাতাসারাই-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও কারাবাগ-ফ্রাঙ্কফুট। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ২টায় লড়াইয়ে নামবে মার্সেই-লিভারপুল, নিউক্যাসল-পিএইচভি, স্লাভিয়া প্রাগ-বার্সেলোনা, জুভেন্টাস-বেনফিকা, চেলসি-পাফোস, বায়ার্ন-ইউনিয়ন সেইন্ট এবং আটলান্টা-অ্যাথলেটিক বিলবাও।
ইস্তাম্বুলের গালতাসারাইয়ের মাঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য অপেক্ষা করছে এক কঠিন পরীক্ষা। ঘরের মাঠে দর্শকদের উন্মত্ত সমর্থনে গালতাসারাই বরাবরই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। তাদের বড় শক্তি উইং আক্রমণ ও হোম সাপোর্ট। অন্যদিকে, দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো সুসংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে অভ্যস্ত। এই ম্যাচে দুই দলের কৌশলগত লড়াই উপভোগ্য হবে।
বৃহস্পতিবার রাতের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচটি বার্সেলোনা খেলবে স্লাভিয়া প্রাগের বিপক্ষে। স্লাভিয়া নিজেদের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৪-৩ গোলের জয় পেলেও, চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে তাদের পথচলা এখনো মসৃণ হয়নি। অন্যদিকে, নিজেদের শেষ ম্যাচে হারের পর মাঠে নামলেও, বার্সেলোনা এই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইবে। স্লাভিয়ার ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রবল সমর্থন এবং তাদের আক্রমণাত্মক খেলার প্রবণতা বার্সেলোনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। প্লে-অফের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে স্বাগতিক স্লাভিয়ার জন্য এই ম্যাচে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার রাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে জুভেন্টাস ও বেনফিকা। এই দ্বৈরথে দেখা যাবে ভিন্ন দুই ফুটবল দর্শন। জুভেন্টাসের বাস্তববাদী ও রক্ষণাত্মক ফুটবল বনাম বেনফিকার গতিময় আক্রমণ। জুভেন্টাসের শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং সেট-পিস দক্ষতা তাদের মূল ভরসা। বিপরীতে, বেনফিকার সৃজনশীল মিডফিল্ড ও উইং আক্রমণ প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে সক্ষম।
বৃহস্পতিবার রাতের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি মার্সেই বনাম লিভারপুলের লড়াই। ফরাসি দর্শকদের সামনে মার্সেইয়ের বিপক্ষে লিভারপুলের জন্য এটি সহজ ম্যাচ হবে না। মার্সেইয়ের দর্শকদের ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ পরিবেশ প্রতিপক্ষের জন্য বড় চাপ তৈরি করে। দুই দলই হাই-প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী হওয়ায় ম্যাচটি হতে পারে রোমাঞ্চকর। মার্সেইয়ের বড় শক্তি ঘরের মাঠে দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন। লিভারপুলের ভরসা তাদের গতি, প্রেসিং এবং আক্রমণের বৈচিত্র্য, যা মার্সেইয়ের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে মাঠে নামবে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। কাগজে-কলমে তারা ইউনিয়ন সেইন্টের চেয়ে স্পষ্ট ফেভারিট। হ্যারি কেনের নেতৃত্বে জার্মান জায়ান্টদের আক্রমণ যেকোনো রক্ষণকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। ইউনিয়ন সেইন্টকে বায়ার্নের সামনে উড়ে যেতে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বায়ার্নের আক্রমণভাগ ও স্কোয়াডের গভীরতা বিশাল হলেও, রক্ষণে কিছু ফাঁকা জায়গা থাকে। ইউনিয়নের শক্তি সুসংগঠিত ডিফেন্স হলেও, অভিজ্ঞতার অভাব তাদের দুর্বলতা। ফলে, বায়ার্ন অভিজ্ঞতার ঝলকানি দেখিয়ে গোলবন্যা বইয়ে দিলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
আজ ও বৃহস্পতিবারের ধাপ শেষে এবারের আসরে অনেক দলের ভবিষ্যৎ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। বড় ক্লাবগুলোর জন্য এটি আধিপত্য দেখানোর মঞ্চ, আর অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর জন্য ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের জানান দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। এবার দেখা যাক, কারা নিজেদের জানান দিয়ে আলোর দেখা পায়।
রিপোর্টারের নাম 























