আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত মাঠে নামবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে বিসিবি ও আইসিসির দোদুল্যমানতায়। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মাঠের ও মানসিক প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দলের অধিনায়ক লিটন দাসও এই পরিস্থিতির বাইরে নন। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে এমন অনিশ্চয়তা তাকে যেমন ভাবিয়ে তুলছে, তেমনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি কোনো স্পষ্ট দিশা পাচ্ছেন না।
গত বছরের মে মাসে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব গ্রহণের পর থেকে লিটন দাস একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গড়তে মনোনিবেশ করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় নির্বাচকরাও তার পছন্দ অনুযায়ী একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল চূড়ান্ত করেছেন। তবে এই গোছানো দল নিয়ে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ মিলবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়ে লিটন প্রশ্ন করেন, ‘কী উত্তর দেব ভাইয়া?’ তার এই সংক্ষিপ্ত উত্তরেই ফুটে উঠেছে বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা।
লিটন মনে করেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ এবং ভেন্যু সম্পর্কে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা থাকলে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সেটি বড় সহায়ক হতো। অধিনায়ক আক্ষেপের সুরে বলেন, দলের চূড়ান্ত ১৫ জন সদস্য এখনো জানেন না তারা কোন দেশে খেলতে যাচ্ছেন কিংবা তাদের প্রতিপক্ষ কারা। এই অনিশ্চয়তা শুধু ক্রিকেটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনেই এখন এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের এই সংকটময় মুহূর্তে বিসিবির পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, এ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি এই পরিস্থিতিতে বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না, সে বিষয়েও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলের উইকেট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক। তিনি স্পষ্ট জানান, বিপিএলের বর্তমান উইকেট টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য আদর্শ নয়। বিশ্বকাপের আগে এমন উইকেটে খেলা প্রস্তুতির জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে তিনি যথেষ্ট সন্দিহান।
তবে এতসব অনিশ্চয়তার মাঝেও আশার আলো দেখছেন লিটন। যদি শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে হাতে থাকা সময়টুকুকে কাজে লাগাতে চান তিনি। লিটনের মতে, বিপিএল শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের মূল আসর শুরু হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় পাওয়া যাবে। এই ১৪ দিন সময় ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে গুছিয়ে নিতে এবং বড় আসরের জন্য প্রস্তুত হতে যথেষ্ট সুযোগ দেবে বলে তিনি মনে করেন। সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেট, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























