বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নানা শঙ্কা থাকলেও, সবাইকে ছাড়িয়ে সবার আগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে দলটি। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে। ১৩৪ রানের অপেক্ষাকৃত ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিন বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চট্টগ্রামের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করল।
আসরের শুরুতে দলটির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, শেষ পর্যন্ত সকল বাধা অতিক্রম করে ফাইনালে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দলটির দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকেই দলটির পারফরম্যান্সে আসে আমূল পরিবর্তন। রবিন লিগ রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে তারা এখন ফাইনালের অপেক্ষায়।
প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভার খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে। ধীর গতির উইকেটে রাজশাহীর দুই ওপেনার তানজিদ তামিম এবং সাহিবজাদা ফারহান ভালো শুরু এনে দিলেও, বড় সংগ্রহের ভিত গড়তে পারেননি। ফারহান ১৯ বলে ২১ এবং তানজিদ ৩৭ বলে ৪১ রান করেন। এছাড়া আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১৫ বলে ৩২ রান করে দলের সংগ্রহ কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেন। চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে অধিনায়ক শেখ মাহেদি ২০ রানে ২ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ১৬ রানে ১ উইকেট লাভ করেন।
১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েও জয়ের পথে এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন ওপেনার মির্জা বেগ। মোহাম্মদ নাঈম ৩৮ বলে ৩০ রানের ধীরস্থির ইনিংস খেলেন। হাসান নাওয়াজ ১৪ বলে ২০ রান করে দলের জয়ের পথ সুগম করেন। শেষ দিকে অধিনায়ক শেখ মাহেদির ৯ বলে ১৯ রানের ঝড়ো ব্যাটিং দলকে সহজ জয় এনে দেয়। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ২০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মাহেদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৩৩/১০ (২০ ওভার), (তানজিদ ৪১, সাকলাইন ৩২, মাহেদি ২/২০)
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৩৪/৪ (১৯.৩ ওভার), (মির্জা ৪৫, নাঈম ৩০, সাকলাইন ২/২০)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শেখ মাহেদি।
রিপোর্টারের নাম 























