ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সীতাকুণ্ডে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা: নেপথ্যে মাইকিং রহস্য ও সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘটনার সময় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কীভাবে চার থেকে পাঁচশ মানুষ সেখানে জড়ো হলো এবং কারাই বা উসকানিমূলক ঘোষণা দিল—তা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

যৌথবাহিনীর একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের ওই দুর্গম এলাকায় অন্তত তিনটি মসজিদ রয়েছে। সাধারণত নামাজের সময়গুলোতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা মোয়াজ্জিন বা খতিবরা মাইক ব্যবহার করেন। তবে ঘটনার দিন র‍্যাবের অভিযানের খবর পাওয়ার পরপরই যে ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি কোনো মসজিদের মাইক থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনো শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, র‍্যাবের দুটি গাড়ি যখন জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে প্রবেশ করছিল, তখন পাশেই একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের উচ্চশব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করেই স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করতে এবং র‍্যাবের ওপর হামলা চালাতে উসকানিমূলক বার্তা প্রচার করা হয়। মূলত এই ঘোষণার পরপরই মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

র‍্যাব-৭-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার ধরন এবং মানুষের উপস্থিতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এটি স্পষ্ট যে, বিষয়টি কোনোভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র আগে থেকেই ওত পেতে ছিল এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোক জড়ো করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

র‍্যাব-৭-এর গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গভীর রাতে এই ন্যাক্কারজনক হামলার পর পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাইকিংয়ের নেপথ্যে যারা ছিল এবং যারা এই বিশাল জনতাকে উসকে দিয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মেদিনা: ‘গুজবে কান দেবেন না’

সীতাকুণ্ডে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা: নেপথ্যে মাইকিং রহস্য ও সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ০২:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘটনার সময় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কীভাবে চার থেকে পাঁচশ মানুষ সেখানে জড়ো হলো এবং কারাই বা উসকানিমূলক ঘোষণা দিল—তা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

যৌথবাহিনীর একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের ওই দুর্গম এলাকায় অন্তত তিনটি মসজিদ রয়েছে। সাধারণত নামাজের সময়গুলোতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা মোয়াজ্জিন বা খতিবরা মাইক ব্যবহার করেন। তবে ঘটনার দিন র‍্যাবের অভিযানের খবর পাওয়ার পরপরই যে ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি কোনো মসজিদের মাইক থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনো শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, র‍্যাবের দুটি গাড়ি যখন জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে প্রবেশ করছিল, তখন পাশেই একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের উচ্চশব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করেই স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করতে এবং র‍্যাবের ওপর হামলা চালাতে উসকানিমূলক বার্তা প্রচার করা হয়। মূলত এই ঘোষণার পরপরই মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

র‍্যাব-৭-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার ধরন এবং মানুষের উপস্থিতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এটি স্পষ্ট যে, বিষয়টি কোনোভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র আগে থেকেই ওত পেতে ছিল এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোক জড়ো করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

র‍্যাব-৭-এর গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গভীর রাতে এই ন্যাক্কারজনক হামলার পর পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাইকিংয়ের নেপথ্যে যারা ছিল এবং যারা এই বিশাল জনতাকে উসকে দিয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।