চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় র্যাব-৭-এর এক নায়েব সুবেদার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। নৃশংস এই হামলার পর পুরো এলাকাটি বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর বেষ্টনীতে রয়েছে। পলাতক সন্ত্রাসীদের ধরতে এবং অপরাধী চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে র্যাব-৭-এর ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল চিহ্নিত এক অস্ত্রধারী আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে যায়। সদস্যরা ঝোপঝাড়পূর্ণ সরু পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে।
এই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান র্যাবের নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব। আহত বাকি তিন সদস্যকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আব্দুল মোতালেব বাহিনীর একজন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
র্যাব-৭-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম মুহূর্তে ভেতরে কোনো সাধারণ মানুষ বা নিরীহ কেউ আছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় র্যাব সদস্যরা গুলি চালানো থেকে বিরত ছিলেন। মূলত আত্মরক্ষার ন্যূনতম চেষ্টা ছাড়া তারা অস্ত্র ব্যবহার করেননি। কিন্তু হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং আকস্মিক।
ঘটনার পর সোমবার রাত থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের সমস্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। সন্ত্রাসীরা যেন কোনোভাবেই পাহাড় ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় এই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধী চক্র ও ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। দুর্গম পাহাড় ও অবৈধ বসতি থাকায় এখানে অপরাধীরা সহজেই আস্তানা গেড়ে বসে। সোমবারের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। হামলাকারীদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পাহাড় দখলকারী গোষ্ঠী এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো এলাকাটি বর্তমানে থমথমে অবস্থায় রয়েছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান এখন আর কেবল একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং জঙ্গল সলিমপুরের পুরো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং তাদের আস্তানা নির্মূল করাই এখন মূল লক্ষ্য। যৌথবাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযান ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























