ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ধানের শীষের প্রচারে অস্বীকৃতি, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারের উপর হামলা, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তার পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ আইচার চর মানিকা ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হামলায় হাজেরা বেগম (৫০) নামের এক নারীর মাথা ফেটে যায় এবং তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন (৩৭) শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে।

আহত হাজেরা বেগমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রবিবার। শাহাবুদ্দিন হাজেরা বেগমকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে নির্দেশ দেয়। হাজেরা বেগম এতে রাজি না হওয়ায় শাহাবুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়। সোমবার সকালে হাজেরা বেগম যখন দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন শাহাবুদ্দিন তাকে বাধা দেয় এবং দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে কাজ না করতে হুমকি দেয়। হাজেরা বেগম তার অস্বীকৃতি জানালে শাহাবুদ্দিন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তাকে মারধর করতে থাকে।

এ সময় হাজেরা বেগমকে বাঁচাতে তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমা এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন এবং তার স্ত্রী লাইজু বেগম মিলে লিমাকেও মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা লিমার পেটেও লাথি মারে। মারধরের এক পর্যায়ে শাহাবুদ্দিন হাজেরা বেগমের কান ছিঁড়ে কানের অলংকার ছিনিয়ে নেয় এবং কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে হাজেরা বেগম ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার মাথায় ছয়টি এবং ছিঁড়ে ফেলা কানে দুটি সেলাই করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী-পুরুষ জানান, যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন এলাকায় দখলবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। সে প্রায়ই বলে বেড়ায় যে প্রশাসন তার নিয়ন্ত্রণে। তার ভাই হেলালও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দখল বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছে এবং সামান্য বিষয়েও মানুষকে মারধর করতে দ্বিধা করে না।

এ ব্যাপারে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সে ফোন কেটে দেয় এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেনি।

দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান কবির জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মেদিনা: ‘গুজবে কান দেবেন না’

ধানের শীষের প্রচারে অস্বীকৃতি, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারের উপর হামলা, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তার পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ আইচার চর মানিকা ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হামলায় হাজেরা বেগম (৫০) নামের এক নারীর মাথা ফেটে যায় এবং তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন (৩৭) শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে।

আহত হাজেরা বেগমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রবিবার। শাহাবুদ্দিন হাজেরা বেগমকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে নির্দেশ দেয়। হাজেরা বেগম এতে রাজি না হওয়ায় শাহাবুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়। সোমবার সকালে হাজেরা বেগম যখন দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন শাহাবুদ্দিন তাকে বাধা দেয় এবং দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে কাজ না করতে হুমকি দেয়। হাজেরা বেগম তার অস্বীকৃতি জানালে শাহাবুদ্দিন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তাকে মারধর করতে থাকে।

এ সময় হাজেরা বেগমকে বাঁচাতে তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমা এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন এবং তার স্ত্রী লাইজু বেগম মিলে লিমাকেও মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা লিমার পেটেও লাথি মারে। মারধরের এক পর্যায়ে শাহাবুদ্দিন হাজেরা বেগমের কান ছিঁড়ে কানের অলংকার ছিনিয়ে নেয় এবং কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে হাজেরা বেগম ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার মাথায় ছয়টি এবং ছিঁড়ে ফেলা কানে দুটি সেলাই করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী-পুরুষ জানান, যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন এলাকায় দখলবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। সে প্রায়ই বলে বেড়ায় যে প্রশাসন তার নিয়ন্ত্রণে। তার ভাই হেলালও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দখল বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছে এবং সামান্য বিষয়েও মানুষকে মারধর করতে দ্বিধা করে না।

এ ব্যাপারে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সে ফোন কেটে দেয় এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেনি।

দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান কবির জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।