ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

জনশূন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু, মায়ের লেখা চিরকুট ও এক অচেনা নারীর দায়িত্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে এক অচেনা নারীর কোলে ২৩ দিন বয়সী এক শিশুকে রেখে তার মা চিরকুট লিখে সটকে পড়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত একটি চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান বের করতে সক্ষম হয় এবং শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর একটার দিকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে অপেক্ষারত মোছা. মিষ্টি আক্তার (২৫), যিনি জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা, তার কাছে আসেন এক অপরিচিত নারী। তিনি মিষ্টি আক্তারকে অনুরোধ করেন যে তিনি বাথরুমে যাবেন, এই ফাঁকে তার কোলে থাকা শিশুটিকে একটু ধরে রাখতে। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিষ্টি আক্তার শিশুটিকে কোলে নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই নারী আর ফিরে আসেননি।

কিছুক্ষণ পর, শিশুটির কাপড়ের ভেতর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, “আপনি বাচ্চাটিকে হেফাজত রাখবেন। বাচ্চাটির জন্ম ১ জানুয়ারি।” বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায়, মিষ্টি আক্তার শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসানের কক্ষে যান এবং পুরো ঘটনা জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

খবরটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। উৎসুক জনতা হাসপাতালে ভিড় জমায় শিশুটিকে দেখতে। কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আবার কেউ আবেগে প্রশ্ন তোলেন, কোন ধরনের অসহায়ত্ব একজন মাকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে?

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, চিরকুটে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নম্বরটি আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তির বলে জানা যায়। তাকে ফোন করলে তিনি হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শিশুটিকে রেখে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের ইমারুল ইসলামের স্ত্রী মুক্তা খাতুন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুক্তা খাতুনের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। শিশুটির নাম রাখা হয় তুবা খাতুন। তবে কী কারণে তিনি এমনভাবে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

অবশেষে, সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এই ঘটনা সমাজে গভীর প্রশ্ন রেখে গেছে—মায়ের অসহায়ত্ব, সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার দায়ভার কে নেবে? বিষয়টি বর্তমানে ঈশ্বরদীতে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মেদিনা: ‘গুজবে কান দেবেন না’

জনশূন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু, মায়ের লেখা চিরকুট ও এক অচেনা নারীর দায়িত্ব

আপডেট সময় : ০১:১০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে এক অচেনা নারীর কোলে ২৩ দিন বয়সী এক শিশুকে রেখে তার মা চিরকুট লিখে সটকে পড়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত একটি চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান বের করতে সক্ষম হয় এবং শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর একটার দিকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে অপেক্ষারত মোছা. মিষ্টি আক্তার (২৫), যিনি জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা, তার কাছে আসেন এক অপরিচিত নারী। তিনি মিষ্টি আক্তারকে অনুরোধ করেন যে তিনি বাথরুমে যাবেন, এই ফাঁকে তার কোলে থাকা শিশুটিকে একটু ধরে রাখতে। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিষ্টি আক্তার শিশুটিকে কোলে নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই নারী আর ফিরে আসেননি।

কিছুক্ষণ পর, শিশুটির কাপড়ের ভেতর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, “আপনি বাচ্চাটিকে হেফাজত রাখবেন। বাচ্চাটির জন্ম ১ জানুয়ারি।” বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায়, মিষ্টি আক্তার শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসানের কক্ষে যান এবং পুরো ঘটনা জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

খবরটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। উৎসুক জনতা হাসপাতালে ভিড় জমায় শিশুটিকে দেখতে। কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আবার কেউ আবেগে প্রশ্ন তোলেন, কোন ধরনের অসহায়ত্ব একজন মাকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে?

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, চিরকুটে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নম্বরটি আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তির বলে জানা যায়। তাকে ফোন করলে তিনি হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শিশুটিকে রেখে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের ইমারুল ইসলামের স্ত্রী মুক্তা খাতুন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুক্তা খাতুনের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। শিশুটির নাম রাখা হয় তুবা খাতুন। তবে কী কারণে তিনি এমনভাবে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

অবশেষে, সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এই ঘটনা সমাজে গভীর প্রশ্ন রেখে গেছে—মায়ের অসহায়ত্ব, সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার দায়ভার কে নেবে? বিষয়টি বর্তমানে ঈশ্বরদীতে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।