ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার লুট: স্বামীকে বেঁধে রেখে রাতভর নির্যাতন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ধামরাইয়ে এক পরিচিতের বাড়িতে বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। অস্ত্রের মুখে স্বামীকে জিম্মি করে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে ওই নারীকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর শরীর থেকে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও বালাসহ প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের অলংকার ছিনিয়ে নেয়। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ধামরাইয়ের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক তার স্ত্রীকে নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদে ঘুরতে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী ও রামরাবন গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র মনিদাস। ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যার দিকে কৃষ্ণের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে যান ওই দম্পতি। রাতে থাকার জন্য তাদের পাশের একটি ঘরে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে ৫-৭ জন যুবক চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে আব্দুর রাজ্জাককে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর তার স্ত্রীকে জিম্মি করে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালায় তারা। পরদিন শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী দম্পতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনিদাসের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভুক্তভোগীদের লাঠিপেটা করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বালিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মন্টু চন্দ্র মনিদাস জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে সেখানে কাউকে খুঁজে পাননি। অভিযুক্তদেরও তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ধামরাই থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হারাধন সরকার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্তদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মেদিনা: ‘গুজবে কান দেবেন না’

ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার লুট: স্বামীকে বেঁধে রেখে রাতভর নির্যাতন

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে এক পরিচিতের বাড়িতে বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। অস্ত্রের মুখে স্বামীকে জিম্মি করে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে ওই নারীকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর শরীর থেকে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও বালাসহ প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের অলংকার ছিনিয়ে নেয়। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ধামরাইয়ের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক তার স্ত্রীকে নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদে ঘুরতে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী ও রামরাবন গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র মনিদাস। ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যার দিকে কৃষ্ণের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে যান ওই দম্পতি। রাতে থাকার জন্য তাদের পাশের একটি ঘরে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে ৫-৭ জন যুবক চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে আব্দুর রাজ্জাককে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর তার স্ত্রীকে জিম্মি করে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালায় তারা। পরদিন শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী দম্পতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনিদাসের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ভুক্তভোগীদের লাঠিপেটা করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বালিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মন্টু চন্দ্র মনিদাস জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তবে সেখানে কাউকে খুঁজে পাননি। অভিযুক্তদেরও তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ধামরাই থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হারাধন সরকার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্তদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।