ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: প্রবাসীদের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েক হাজার প্রবাসী ইরানি। দেশটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কসহ প্রধান শহরগুলোতে আয়োজিত এসব বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তেহরানের দমন নীতি বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে রোববার কয়েক হাজার মানুষ বিশাল এক মিছিলে অংশ নেন। অন্যদিকে, নিউইয়র্কেও কয়েকশ মানুষ সমবেত হয়ে ইরানি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘ইরানি সরকারের সন্ত্রাস রুখে দাও’—এর মতো স্লোগানগুলো শোভা পাচ্ছিল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পেরি ফারাজ নামের এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত শোকের কথা উল্লেখ করে জানান, চলতি সপ্তাহে ইরানে আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তার এক নিকটাত্মীয় নিহত হয়েছেন। তার মতে, নিজ দেশে সাধারণ মানুষের ওপর এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযান শুরু করে। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া আলী পারভানেহ নামের এক প্রবাসী বলেন, “জনগণের ওপর এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” সমাবেশে অনেক বিক্ষোভকারী মার্কিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অপসারণ চেয়ে কঠোর স্লোগান দেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মিছিলে ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভির সমর্থনেও কিছু স্লোগান শোনা যায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের মধ্যে পাহলভির কিছু জনপ্রিয়তা থাকলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার প্রভাব বর্তমানে অত্যন্ত নগণ্য।

প্রবাসী ইরানিদের এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো— নিজ দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর আকর্ষণ করা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত দেশটির ভেতরে থাকা সাধারণ জনগণের সাহসিকতা ও সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় হরমুজ প্রণালি এড়াচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ

ইরানে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: প্রবাসীদের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ

আপডেট সময় : ০২:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েক হাজার প্রবাসী ইরানি। দেশটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কসহ প্রধান শহরগুলোতে আয়োজিত এসব বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তেহরানের দমন নীতি বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে রোববার কয়েক হাজার মানুষ বিশাল এক মিছিলে অংশ নেন। অন্যদিকে, নিউইয়র্কেও কয়েকশ মানুষ সমবেত হয়ে ইরানি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘ইরানি সরকারের সন্ত্রাস রুখে দাও’—এর মতো স্লোগানগুলো শোভা পাচ্ছিল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পেরি ফারাজ নামের এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত শোকের কথা উল্লেখ করে জানান, চলতি সপ্তাহে ইরানে আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তার এক নিকটাত্মীয় নিহত হয়েছেন। তার মতে, নিজ দেশে সাধারণ মানুষের ওপর এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযান শুরু করে। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া আলী পারভানেহ নামের এক প্রবাসী বলেন, “জনগণের ওপর এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” সমাবেশে অনেক বিক্ষোভকারী মার্কিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অপসারণ চেয়ে কঠোর স্লোগান দেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মিছিলে ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভির সমর্থনেও কিছু স্লোগান শোনা যায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের মধ্যে পাহলভির কিছু জনপ্রিয়তা থাকলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার প্রভাব বর্তমানে অত্যন্ত নগণ্য।

প্রবাসী ইরানিদের এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো— নিজ দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর আকর্ষণ করা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত দেশটির ভেতরে থাকা সাধারণ জনগণের সাহসিকতা ও সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।