ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

লুটের অস্ত্র হয়তো খাল-বিলে ফেলে দিয়েছে তাই উদ্ধার হচ্ছে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হয়তো লুটকারীরা খালে-বিলে ফেলে দিয়েছে; এ কারণে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘থানা থেকে লুট হওয়া কিছু অস্ত্র আছে, সেগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেগুলো হয়তো খাল-বিল-নদীতে ফেলে দিয়েছে। এ জন্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।তবে পুলিশের লুট হওয়া এই অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার করতে পারবে না—এ প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিতে পারি। দৈনিক আমাদের কিছু না কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে না তা নয়। উদ্ধার হচ্ছে।সীমান্ত দিয়ে যে অস্ত্র আসছে সেগুলোও কিন্তু উদ্ধার হচ্ছে। তবে আপনারা যে পরিমাণ আশা করেন, হয়তো সে পরিমাণ হচ্ছে না।’

গতকাল রবিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে এখন জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থী আগের চেয়ে অনেক অনেক কম।এখন জঙ্গিবাদ নেই বললেই চলে। তবে কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে, তারা অন্যান্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এই জঙ্গিদের যাতে তাড়াতাড়ি দেশে নিয়ে আসতে পরি, যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি—এ জন্য আমরা ব্যবস্থা করব।’

এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শন্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন।এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনী নিরাপত্তাসহ দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়। তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। কাজেই পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।’

পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এমনকি দায়িত্ব পালনে তাঁদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ করবেন না। কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আশা করি, আপনারা পেশাদারির পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।’

২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুজন প্রশিক্ষণার্থী সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মণ্ডল। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ, বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক প্রমুখ।

সমাপনী কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল তওফিক মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

লুটের অস্ত্র হয়তো খাল-বিলে ফেলে দিয়েছে তাই উদ্ধার হচ্ছে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:২৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হয়তো লুটকারীরা খালে-বিলে ফেলে দিয়েছে; এ কারণে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘থানা থেকে লুট হওয়া কিছু অস্ত্র আছে, সেগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেগুলো হয়তো খাল-বিল-নদীতে ফেলে দিয়েছে। এ জন্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।তবে পুলিশের লুট হওয়া এই অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার করতে পারবে না—এ প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিতে পারি। দৈনিক আমাদের কিছু না কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে না তা নয়। উদ্ধার হচ্ছে।সীমান্ত দিয়ে যে অস্ত্র আসছে সেগুলোও কিন্তু উদ্ধার হচ্ছে। তবে আপনারা যে পরিমাণ আশা করেন, হয়তো সে পরিমাণ হচ্ছে না।’

গতকাল রবিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে এখন জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থী আগের চেয়ে অনেক অনেক কম।এখন জঙ্গিবাদ নেই বললেই চলে। তবে কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে, তারা অন্যান্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এই জঙ্গিদের যাতে তাড়াতাড়ি দেশে নিয়ে আসতে পরি, যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি—এ জন্য আমরা ব্যবস্থা করব।’

এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শন্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন।এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনী নিরাপত্তাসহ দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়। তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। কাজেই পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।’

পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এমনকি দায়িত্ব পালনে তাঁদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ করবেন না। কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আশা করি, আপনারা পেশাদারির পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।’

২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুজন প্রশিক্ষণার্থী সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মণ্ডল। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ, বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক প্রমুখ।

সমাপনী কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল তওফিক মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ।