ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্ত: লাল পাসপোর্ট সরাচ্ছেন উপদেষ্টারা

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাঁর লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীও একইভাবে তাঁদের লাল পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসার এই সময়ে উপদেষ্টাদের এমন পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে বেশ কানাঘুষা শুরু হয়েছে।

সরকারি তথ্যমতে, বিধান রঞ্জন রায় তাঁর আবেদনের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেহেতু অতি সন্নিকটে, তাই ঝামেলা এড়াতে উপদেষ্টারা আগেভাগেই সাধারণ পাসপোর্টের প্রক্রিয়া সেরে রাখছেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল বা ফেরত দেওয়ার পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে হলে দুটি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই ও এনএসআই) তদন্ত প্রতিবেদনের প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপদেষ্টারা আবেদন করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ও তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া তাঁদের হাতে নতুন পাসপোর্ট পৌঁছাবে না।

গত ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছিল যে, কর্মকাল শেষ হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের লাল পাসপোর্ট বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল যে, লাল পাসপোর্টধারী কেউ সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলে তাঁকে অবশ্যই গোয়েন্দা সংস্থার ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা প্রতিবেদনের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে হওয়ায় আরও অনেক উপদেষ্টা দ্রুতই তাঁদের পাসপোর্ট জমা দিতে পারেন।

বর্তমানে পাসপোর্ট অধিদপ্তর উপদেষ্টাদের এই আবেদনগুলো নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে যে, নির্বাচনের পর সম্ভাব্য আইনি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতেই উপদেষ্টারা এই কৌশলগত পথে হাঁটছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধ বা অসংগতির প্রমাণ মেলে, তবে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার বিষয়টি আটকে যেতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রতিটি পদক্ষেপেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্ত: লাল পাসপোর্ট সরাচ্ছেন উপদেষ্টারা

আপডেট সময় : ০১:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাঁর লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীও একইভাবে তাঁদের লাল পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসার এই সময়ে উপদেষ্টাদের এমন পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে বেশ কানাঘুষা শুরু হয়েছে।

সরকারি তথ্যমতে, বিধান রঞ্জন রায় তাঁর আবেদনের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেহেতু অতি সন্নিকটে, তাই ঝামেলা এড়াতে উপদেষ্টারা আগেভাগেই সাধারণ পাসপোর্টের প্রক্রিয়া সেরে রাখছেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল বা ফেরত দেওয়ার পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে হলে দুটি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই ও এনএসআই) তদন্ত প্রতিবেদনের প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপদেষ্টারা আবেদন করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ও তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া তাঁদের হাতে নতুন পাসপোর্ট পৌঁছাবে না।

গত ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছিল যে, কর্মকাল শেষ হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের লাল পাসপোর্ট বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল যে, লাল পাসপোর্টধারী কেউ সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলে তাঁকে অবশ্যই গোয়েন্দা সংস্থার ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা প্রতিবেদনের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে হওয়ায় আরও অনেক উপদেষ্টা দ্রুতই তাঁদের পাসপোর্ট জমা দিতে পারেন।

বর্তমানে পাসপোর্ট অধিদপ্তর উপদেষ্টাদের এই আবেদনগুলো নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে যে, নির্বাচনের পর সম্ভাব্য আইনি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতেই উপদেষ্টারা এই কৌশলগত পথে হাঁটছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধ বা অসংগতির প্রমাণ মেলে, তবে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার বিষয়টি আটকে যেতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রতিটি পদক্ষেপেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।