ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জন্মহারে ঐতিহাসিক পতন: চীনের জনসংখ্যায় নজিরবিহীন সংকট

চীনের জনসংখ্যায় এক উদ্বেগজনক এবং ঐতিহাসিক পতন লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা টানা চতুর্থ বছরের মতো চলমান জনসংখ্যা হ্রাসের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। জন্মহার বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীনে মাত্র ৭৯ লক্ষ ২০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। এর ফলে প্রতি হাজার মানুষের বিপরীতে জন্মহার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬৩। এই সংখ্যা ১৯৪৯ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন। যদিও বিগত বছরে জন্মহারে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমান তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে সেই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান ছিল না।

গত বছর চীনে মোট শিশুর জন্মের সংখ্যা ৭.৯২ মিলিয়ন হলেও, মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১.৩১ মিলিয়ন। এর ফলস্বরূপ, চীনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন কমে দাঁড়িয়েছে ১.৪ বিলিয়নে। এই নেতিবাচক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন দেশটির শ্রমশক্তি কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য ভবিষ্যতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিয়ে এবং সন্তান গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা চীনের জন্মহার হ্রাসের মূল কারণ। এই পরিস্থিতি দেশটির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন সরকার জন্মহার বাড়াতে শিশু ভাতা, আবাসন সহায়তায় কর ছাড় এবং বিনামূল্যে প্রাক-স্কুল শিক্ষার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তা সত্ত্বেও, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্তান নেওয়ার আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি চাপের কারণে অনেকেই পরিবার গঠনে অনীহা প্রকাশ করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা এরদোয়ানের

জন্মহারে ঐতিহাসিক পতন: চীনের জনসংখ্যায় নজিরবিহীন সংকট

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের জনসংখ্যায় এক উদ্বেগজনক এবং ঐতিহাসিক পতন লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা টানা চতুর্থ বছরের মতো চলমান জনসংখ্যা হ্রাসের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। জন্মহার বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীনে মাত্র ৭৯ লক্ষ ২০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। এর ফলে প্রতি হাজার মানুষের বিপরীতে জন্মহার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬৩। এই সংখ্যা ১৯৪৯ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন। যদিও বিগত বছরে জন্মহারে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমান তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে সেই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান ছিল না।

গত বছর চীনে মোট শিশুর জন্মের সংখ্যা ৭.৯২ মিলিয়ন হলেও, মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১.৩১ মিলিয়ন। এর ফলস্বরূপ, চীনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন কমে দাঁড়িয়েছে ১.৪ বিলিয়নে। এই নেতিবাচক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন দেশটির শ্রমশক্তি কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য ভবিষ্যতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিয়ে এবং সন্তান গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা চীনের জন্মহার হ্রাসের মূল কারণ। এই পরিস্থিতি দেশটির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন সরকার জন্মহার বাড়াতে শিশু ভাতা, আবাসন সহায়তায় কর ছাড় এবং বিনামূল্যে প্রাক-স্কুল শিক্ষার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তা সত্ত্বেও, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্তান নেওয়ার আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি চাপের কারণে অনেকেই পরিবার গঠনে অনীহা প্রকাশ করছেন।