কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে বামপন্থী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্তত ২৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে।
সামরিক সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াভিয়ার বিভাগের এল রেতোর্নো পৌরসভার একটি গ্রামীণ অঞ্চলে। রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই এলাকাটি কোকেন উৎপাদন ও মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (ফার্ক)-এর দুটি ভিন্ন গোষ্ঠী। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন নেস্তর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর গোষ্ঠীর নেতা আলেকজান্ডার দিয়াজ মেনদোজা, যার পরিচিত নাম ‘কালারকা কর্দোবা’।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দুটি গোষ্ঠী পূর্বে ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’ নামক একই জোটের অংশ ছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গত এপ্রিল মাসে তারা পৃথক হয়ে যায়। নিহত ২৭ জনই ভেরার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মেনদোজার গোষ্ঠীর এক নেতা সংঘর্ষে প্রাণহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে দিয়াজ মেনদোজার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় নিয়োজিত রয়েছে। অন্যদিকে, ভেরার গোষ্ঠী সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্থগিত হওয়ার পরও তাদের সশস্ত্র তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, এই দুটি গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল, যার আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাতে এ পর্যন্ত চার লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মাদক চোরাচালান এবং অবৈধ খনিজ উত্তোলন এই গোষ্ঠীগুলোর অর্থ উপার্জনের প্রধান উৎস। চলমান এই সহিংসতা প্রেসিডেন্ট পেত্রোর শান্তি উদ্যোগকে কার্যত স্থবির করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















