ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন: নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি তাদের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত মৌলিক পরিষেবাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একটি স্থিতিশীল সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট’ (এনজিএসি) নামে পরিচিত এই সংস্থার জেনারেল কমিশনার আলী শাথ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো খাতগুলোকে পুনরুদ্ধার করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এই পরিষেবাগুলোর পুনর্গঠন অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এক বিবৃতিতে শাথ বলেন, এই পুনর্গঠন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর নির্দেশনা এবং গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধির সহযোগিতায় পরিচালিত হবে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং গাজার সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণকেও এই উদ্যোগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অধীনে এনজিএসি গঠিত হয়েছে এবং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত। কমিটিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা, পুনর্গঠন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বনির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।

পরিকল্পনা অনুসারে, সামগ্রিক পুনর্গঠন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবে ‘বোর্ড অব পিস’, অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এর। তবে, এসব কাঠামোয় ইসরায়েলপন্থী সদস্যদের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ফিলিস্তিনিদের সীমিত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এর অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনজিএসি কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী এবং জরুরি সেবার প্রবেশে বিদ্যমান বাধাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

এরই মধ্যে, সাম্প্রতিক হামলায় আরও কয়েক শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৫৪৮ জনে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গাজা ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘসহ প্রচলিত আন্তর্জাতিক কাঠামোকে এড়িয়ে একটি নতুন মডেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে অনেক ফিলিস্তিনির আশঙ্কা, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে আড়ালে রেখে মূলত অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় হরমুজ প্রণালি এড়াচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ

গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন: নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি তাদের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত মৌলিক পরিষেবাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একটি স্থিতিশীল সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট’ (এনজিএসি) নামে পরিচিত এই সংস্থার জেনারেল কমিশনার আলী শাথ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো খাতগুলোকে পুনরুদ্ধার করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এই পরিষেবাগুলোর পুনর্গঠন অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এক বিবৃতিতে শাথ বলেন, এই পুনর্গঠন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর নির্দেশনা এবং গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধির সহযোগিতায় পরিচালিত হবে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং গাজার সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণকেও এই উদ্যোগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অধীনে এনজিএসি গঠিত হয়েছে এবং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত। কমিটিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা, পুনর্গঠন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বনির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।

পরিকল্পনা অনুসারে, সামগ্রিক পুনর্গঠন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবে ‘বোর্ড অব পিস’, অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এর। তবে, এসব কাঠামোয় ইসরায়েলপন্থী সদস্যদের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ফিলিস্তিনিদের সীমিত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এর অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনজিএসি কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী এবং জরুরি সেবার প্রবেশে বিদ্যমান বাধাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

এরই মধ্যে, সাম্প্রতিক হামলায় আরও কয়েক শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৫৪৮ জনে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গাজা ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘসহ প্রচলিত আন্তর্জাতিক কাঠামোকে এড়িয়ে একটি নতুন মডেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে অনেক ফিলিস্তিনির আশঙ্কা, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে আড়ালে রেখে মূলত অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।