মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:১২ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

গাজার যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা প্রকাশ করলো সৌদি: হামাসকে দুর্বল, পিএ-কে শক্তিশালী করার লক্ষ্য

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসে। এই প্রতিবেদনে গাজার ভবিষ্যত নিয়ে সৌদি আরবের বিস্তারিত পরিকল্পনা দেখা যায়। এর মধ্যে প্রধান লক্ষ্য হলো হামাসকে গাজায় কোণঠাসা করে ফেলা ও তাদের নিরস্ত্র করা। সেই সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিন অথরিটিকে (পিএ) শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহায়তা করা।

গাজা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ মূলত তিনটি প্রধান পরিকল্পনার অধীনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো:

প্রথমত, হামাসকে দুর্বল ও নিরস্ত্র করা: এই স্তম্ভের আওতায় সৌদি আরব চারটি মূল পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে:

ভূমিকা সীমিতকরণ: গাজার প্রশাসনে হামাসের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

নিরস্ত্রীকরণ: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে ‘ধাপে ধাপে’ হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে।

কোণঠাসা করা: সৌদি আরব মনে করে ফিলিস্তিনের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হামাস একটি প্রধান বাধা। তাই তাদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হবে।

গাজার ক্ষমতা হস্তান্তর: গাজার শাসন ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনি অথরিটিরি (পিএ) হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা।

দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনি অথরিটির (পিএ) সংস্কার ও সহায়তা: এই লক্ষ্যে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে:

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: ফিলিস্তিনি অথরিটির কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো দুর্নীতি দূর করা, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ফিলিস্তিনের সকল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

আর্থিক ও কারিগরি সমর্থন: ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে পিএ-কে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।

জাতীয় ঐক্য: ফিলিস্তিনি জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সব পক্ষকে পিএ-এর অধীনে এনে জাতীয় সংহতি জোরদার করা। এই আলোচনার সহায়তার জন্য আঞ্চলিক সভা ও সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও লক্ষ্য: এই স্তম্ভটিও তিনটি মূল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করবে:

শান্তিরক্ষা বাহিনী: গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন মোতায়েনকে সমর্থন করা হবে। প্রয়োজনে সৌদি আরব এই বাহিনীতে সৈন্য দিয়ে অবদান রাখতে পারে।

পরামর্শ: পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিসর, জর্ডান এবং ফিলিস্তিনি প্রশাসনের সাথে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: এই সকল উদ্যোগকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের (দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণা) সাথে যুক্ত করা। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

গাজার যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা প্রকাশ করলো সৌদি: হামাসকে দুর্বল, পিএ-কে শক্তিশালী করার লক্ষ্য

হালনাগাদ সময় : ১১:৩৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসে। এই প্রতিবেদনে গাজার ভবিষ্যত নিয়ে সৌদি আরবের বিস্তারিত পরিকল্পনা দেখা যায়। এর মধ্যে প্রধান লক্ষ্য হলো হামাসকে গাজায় কোণঠাসা করে ফেলা ও তাদের নিরস্ত্র করা। সেই সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিন অথরিটিকে (পিএ) শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহায়তা করা।

গাজা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ মূলত তিনটি প্রধান পরিকল্পনার অধীনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো:

প্রথমত, হামাসকে দুর্বল ও নিরস্ত্র করা: এই স্তম্ভের আওতায় সৌদি আরব চারটি মূল পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে:

ভূমিকা সীমিতকরণ: গাজার প্রশাসনে হামাসের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

নিরস্ত্রীকরণ: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে ‘ধাপে ধাপে’ হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে।

কোণঠাসা করা: সৌদি আরব মনে করে ফিলিস্তিনের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হামাস একটি প্রধান বাধা। তাই তাদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হবে।

গাজার ক্ষমতা হস্তান্তর: গাজার শাসন ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনি অথরিটিরি (পিএ) হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা।

দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনি অথরিটির (পিএ) সংস্কার ও সহায়তা: এই লক্ষ্যে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে:

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: ফিলিস্তিনি অথরিটির কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো দুর্নীতি দূর করা, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ফিলিস্তিনের সকল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

আর্থিক ও কারিগরি সমর্থন: ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে পিএ-কে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।

জাতীয় ঐক্য: ফিলিস্তিনি জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সব পক্ষকে পিএ-এর অধীনে এনে জাতীয় সংহতি জোরদার করা। এই আলোচনার সহায়তার জন্য আঞ্চলিক সভা ও সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও লক্ষ্য: এই স্তম্ভটিও তিনটি মূল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করবে:

শান্তিরক্ষা বাহিনী: গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন মোতায়েনকে সমর্থন করা হবে। প্রয়োজনে সৌদি আরব এই বাহিনীতে সৈন্য দিয়ে অবদান রাখতে পারে।

পরামর্শ: পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিসর, জর্ডান এবং ফিলিস্তিনি প্রশাসনের সাথে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: এই সকল উদ্যোগকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের (দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণা) সাথে যুক্ত করা। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

Share this news as a Photo Card