সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা তাঁকে এক অপরাজেয় ও মহানুভব নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা মরহুমা নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অটল চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের তাঁর আদর্শ ও মানসিকতা ধারণ করার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উদারতার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর কারাবাস ও সুচিকিৎসার অভাব সত্ত্বেও তাঁর মনে কোনো প্রতিহিংসা ছিল না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তাঁর দেওয়া শেষ ভাষণে ধ্বংসের বদলে শান্তির যে ডাক তিনি দিয়েছিলেন, তা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁর জীবনকে ত্যাগ ও উত্থানের মহাকাব্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, আশির দশকে দলকে সুসংগঠিত করার মাধ্যমে তিনি নিজেকে ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর খালেদা জিয়ার অসামান্য পরিমিতিবোধ ও রুচিশীল রাজনৈতিক আচরণের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চরম নির্যাতনের মুখেও বেগম জিয়া কখনো কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেননি। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, জিয়া দম্পতি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য জনপ্রিয় যুগল ছিলেন এবং এখন তাঁদের উত্তরসূরি তারেক রহমানের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে বলে মত দেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়ার সততা ও দেশপ্রেম ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এক বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে তাঁকে ব্যথিত করা হয়েছিল। বর্তমানে মুক্ত পরিবেশে তাঁর প্রতি মানুষের এই অবারিত ভালোবাসাকে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তারা একমত হন যে, জাতীয় ঐক্যের যে ডাক খালেদা জিয়া দিয়ে গেছেন, তা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধান দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
রিপোর্টারের নাম 






















