ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

‘বোর্ডের তহবিলের বড় অংশই ক্রিকেটারদের অবদান’: বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে মিরাজের পাল্টা জবাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও তাদের পেছনে বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্যে উত্তাল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। ক্রিকেটারদের পেছনে ব্যয় করা অর্থ নিয়ে বোর্ড পরিচালকের নেতিবাচক বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের (COAB) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে মিরাজ স্পষ্ট করেছেন যে, বিসিবির আয়ের মূল উৎস আইসিসি ও স্পন্সরদের অর্থ, যা মূলত খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে কিছুটা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে তাদের পেছনে হওয়া বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে না। ব্যর্থতার জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থ কেন ফেরত চাওয়া হবে না—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেন তিনি।

বোর্ড পরিচালকের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্রিকেটারদের অবস্থান পরিষ্কার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় ভুল ধারণা তৈরি করা হয় যে, ক্রিকেটাররা বোর্ডের দয়ায় চলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিসিবির আয়ের সিংহভাগ আসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্পন্সর থেকে। আর এই প্রতিটি আয়ের উৎস সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।

বিসিবির তহবিলে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে কিছুদিন আগেই জানানো হয়েছে। এই বিশাল অংকের অর্থের পেছনে সাবেক ও বর্তমান সকল ক্রিকেটারের অবদান রয়েছে বলে মনে করেন মিরাজ। তিনি বলেন, “আজকে ক্রিকেট বোর্ডের যে তহবিল, সেখানে জাতীয় দলে খেলা প্রত্যেকটি ক্রিকেটারের অবদান আছে। মাঠে খেলা হয় বলেই আজ ক্রিকেট বোর্ড একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। খেলা না হলে স্পন্সর আসত না এবং আইসিসি থেকে প্রাপ্ত রাজস্বও পাওয়া যেত না।” বোর্ড পরিচালকের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয় বরং পুরো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কর প্রদানের বিষয়টিও সামনে আনেন মিরাজ। তিনি জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তাদের আয়ের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারকে কর হিসেবে প্রদান করেন। ফলে সরকার থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে ক্রিকেটাররাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় অংকের অর্থ যোগান দিচ্ছেন। মিরাজ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ক্রিকেটাররা সবসময় দেশের জন্য মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যাদুর্গতদের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া

‘বোর্ডের তহবিলের বড় অংশই ক্রিকেটারদের অবদান’: বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে মিরাজের পাল্টা জবাব

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও তাদের পেছনে বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্যে উত্তাল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। ক্রিকেটারদের পেছনে ব্যয় করা অর্থ নিয়ে বোর্ড পরিচালকের নেতিবাচক বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের (COAB) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে মিরাজ স্পষ্ট করেছেন যে, বিসিবির আয়ের মূল উৎস আইসিসি ও স্পন্সরদের অর্থ, যা মূলত খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে কিছুটা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে তাদের পেছনে হওয়া বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে না। ব্যর্থতার জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থ কেন ফেরত চাওয়া হবে না—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেন তিনি।

বোর্ড পরিচালকের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্রিকেটারদের অবস্থান পরিষ্কার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় ভুল ধারণা তৈরি করা হয় যে, ক্রিকেটাররা বোর্ডের দয়ায় চলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিসিবির আয়ের সিংহভাগ আসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্পন্সর থেকে। আর এই প্রতিটি আয়ের উৎস সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।

বিসিবির তহবিলে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে কিছুদিন আগেই জানানো হয়েছে। এই বিশাল অংকের অর্থের পেছনে সাবেক ও বর্তমান সকল ক্রিকেটারের অবদান রয়েছে বলে মনে করেন মিরাজ। তিনি বলেন, “আজকে ক্রিকেট বোর্ডের যে তহবিল, সেখানে জাতীয় দলে খেলা প্রত্যেকটি ক্রিকেটারের অবদান আছে। মাঠে খেলা হয় বলেই আজ ক্রিকেট বোর্ড একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। খেলা না হলে স্পন্সর আসত না এবং আইসিসি থেকে প্রাপ্ত রাজস্বও পাওয়া যেত না।” বোর্ড পরিচালকের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয় বরং পুরো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কর প্রদানের বিষয়টিও সামনে আনেন মিরাজ। তিনি জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তাদের আয়ের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারকে কর হিসেবে প্রদান করেন। ফলে সরকার থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে ক্রিকেটাররাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় অংকের অর্থ যোগান দিচ্ছেন। মিরাজ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ক্রিকেটাররা সবসময় দেশের জন্য মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে।