ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির নতুন গতি, সম্ভাবনা উজ্জ্বল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের অর্থনীতির এই শক্তিশালী সম্ভাবনার কারণেই বিশ্বব্যাংক তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাস সংশোধন করেছে।

নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত হবে। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাবে। জুনের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধি ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রতি বিশ্বব্যাংকের আস্থার প্রতিফলন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাওয়ার ফলে ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী শিল্প কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা। এছাড়া, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং নতুন সরকারের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৬ শতাংশে নামবে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পূর্বাভাস যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ২০২০-এর দশকটি ১৯৬০-এর দশকের পর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল দশক হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রত্যাশিত নীতিগত পরিবর্তনের আগে বাণিজ্যে অগ্রিম তৎপরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দ্রুত সমন্বয়ের ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা সহায়তা পেয়েছিল। কিন্তু এসব সাময়িক উদ্দীপনা ২০২৬ সালে কমে যাবে, কারণ বাণিজ্য গতি শ্লথ হবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হবে। তবে বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার শিথিলতা এবং কয়েকটি বড় অর্থনীতিতে রাজস্ব সম্প্রসারণ এই মন্দা কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে কমে ২.৬ শতাংশে নামবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে শ্রমবাজারের শীতলতা এবং জ্বালানির দাম কমার ভূমিকা রয়েছে। বাণিজ্য প্রবাহে সমন্বয় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমলে ২০২৭ সালে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্ডারমিত গিল মন্তব্য করেছেন, “প্রতিটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি সৃষ্টিতে কম সক্ষম হলেও নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রতি যেন আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, ধীরগতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের রেকর্ড উচ্চমাত্রা যুক্ত হলে তা সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ঋণবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজস্ব চাপ বাড়ছে, যেখানে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রসপেক্টস গ্রুপের পরিচালক এম আয়হান কোসে বলেন, “উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় রাজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এখন জরুরি অগ্রাধিকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সঠিকভাবে নকশা করা রাজস্ব বিধি ঋণ স্থিতিশীল করতে ও নীতিগত সুরক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়ন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন চমক ‘পথের প্যাঁচাল’: ইয়াশ ও বহ্নির ভিন্নধর্মী রসায়ন

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির নতুন গতি, সম্ভাবনা উজ্জ্বল

আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের অর্থনীতির এই শক্তিশালী সম্ভাবনার কারণেই বিশ্বব্যাংক তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাস সংশোধন করেছে।

নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত হবে। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাবে। জুনের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধি ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতার প্রতি বিশ্বব্যাংকের আস্থার প্রতিফলন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাওয়ার ফলে ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী শিল্প কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা। এছাড়া, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং নতুন সরকারের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৬ শতাংশে নামবে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পূর্বাভাস যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ২০২০-এর দশকটি ১৯৬০-এর দশকের পর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল দশক হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রত্যাশিত নীতিগত পরিবর্তনের আগে বাণিজ্যে অগ্রিম তৎপরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দ্রুত সমন্বয়ের ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা সহায়তা পেয়েছিল। কিন্তু এসব সাময়িক উদ্দীপনা ২০২৬ সালে কমে যাবে, কারণ বাণিজ্য গতি শ্লথ হবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হবে। তবে বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার শিথিলতা এবং কয়েকটি বড় অর্থনীতিতে রাজস্ব সম্প্রসারণ এই মন্দা কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে কমে ২.৬ শতাংশে নামবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে শ্রমবাজারের শীতলতা এবং জ্বালানির দাম কমার ভূমিকা রয়েছে। বাণিজ্য প্রবাহে সমন্বয় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমলে ২০২৭ সালে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্ডারমিত গিল মন্তব্য করেছেন, “প্রতিটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি সৃষ্টিতে কম সক্ষম হলেও নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রতি যেন আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, ধীরগতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের রেকর্ড উচ্চমাত্রা যুক্ত হলে তা সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ঋণবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজস্ব চাপ বাড়ছে, যেখানে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রসপেক্টস গ্রুপের পরিচালক এম আয়হান কোসে বলেন, “উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় রাজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এখন জরুরি অগ্রাধিকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সঠিকভাবে নকশা করা রাজস্ব বিধি ঋণ স্থিতিশীল করতে ও নীতিগত সুরক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়ন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর।