ময়মনসিংহে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে থানায় নেওয়ার পথে তার স্বজনদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ ওই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসামির বাবাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সাগর আলী হাজি (৬০), তার ছেলে এ কে এম রেজাউল করিম (৩৫), সুজন মিয়া (২৭), তার ভাই নাজিম উদ্দিন (৩৭), মো. জয়নাল উদ্দিন (৪২), মো. খলিলুর রহমান (৪০) ও মো. নাজিম উদ্দিন (৪২)। তারা সবাই ময়মনসিংহ নগরীর দিঘারকান্দা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি দুপুরে দিঘারকান্দা এলাকায় মো. রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। গুরুতর আহত রাসেল বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আহতের পরিবার গত ১১ জানুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তিনজন কনস্টেবলসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল গত মঙ্গলবার বিকেলে দিঘারকান্দা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার ৬ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আহত করে এবং একপর্যায়ে হাতকড়াসহ আসামি আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে এই মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























