ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নির্ধারিত সময়েই ভোট: ১২ ফেব্রুয়ারির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে পুনরায় স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সময়সূচির কোনো পরিবর্তন হবে না; নির্বাচন একদিন আগেও নয়, আবার একদিন পরেও নয়।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী এই দুই কূটনীতিক বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এবং ফলাফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কে কী অপপ্রচার চালালো তাতে সরকারের কিছু যায় আসে না, নির্ধারিত তারিখেই ভোট হবে।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করছে। জনগণের সমর্থনে এই সনদ অনুমোদিত হলে তা দেশে গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো অপতথ্য ও ভুয়া খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচার শনাক্ত করতে পারছে।

বৈঠকে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ প্রজন্মের উত্থান, রোহিঙ্গা সংকট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাবেক মার্কিন কূটনীতিকরা এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এখনো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি।

পতিত সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে ড. ইউনূস বলেন, পুনর্মিলন প্রক্রিয়া তখনই সম্ভব যখন অপরাধের জন্য অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তারা এখনো কোনো ভুল স্বীকার করেনি, বরং জুলাই আন্দোলনে শহীদ তরুণদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অপরাধের পাহাড়সম প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা সবকিছু অস্বীকার করে যাচ্ছে।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গম্বিস ভুয়া খবরের বৈশ্বিক হুমকি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় ফিরছেন চরফ্যাশনের জেলেরা

নির্ধারিত সময়েই ভোট: ১২ ফেব্রুয়ারির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে পুনরায় স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সময়সূচির কোনো পরিবর্তন হবে না; নির্বাচন একদিন আগেও নয়, আবার একদিন পরেও নয়।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী এই দুই কূটনীতিক বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এবং ফলাফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কে কী অপপ্রচার চালালো তাতে সরকারের কিছু যায় আসে না, নির্ধারিত তারিখেই ভোট হবে।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করছে। জনগণের সমর্থনে এই সনদ অনুমোদিত হলে তা দেশে গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো অপতথ্য ও ভুয়া খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচার শনাক্ত করতে পারছে।

বৈঠকে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ প্রজন্মের উত্থান, রোহিঙ্গা সংকট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাবেক মার্কিন কূটনীতিকরা এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এখনো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি।

পতিত সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে ড. ইউনূস বলেন, পুনর্মিলন প্রক্রিয়া তখনই সম্ভব যখন অপরাধের জন্য অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তারা এখনো কোনো ভুল স্বীকার করেনি, বরং জুলাই আন্দোলনে শহীদ তরুণদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অপরাধের পাহাড়সম প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা সবকিছু অস্বীকার করে যাচ্ছে।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গম্বিস ভুয়া খবরের বৈশ্বিক হুমকি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।