দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে, যা ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য সরকারের উদ্যোগগুলো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একইসাথে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার ‘শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা জোরদারের তাগিদ’ শীর্ষক এক জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি এ কথা জানান।
সভায় বক্তারা ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৪-এর তথ্য উল্লেখ করে বলেন, দেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যায় ৫১ জনের বেশি মানুষ, যার ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু। এই পরিসংখ্যান শিশুদের জন্য পানিতে ডুবে মৃত্যুকে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার আইসিবিসি প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটিভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপত্তা কৌশল প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। বর্তমানে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৪টি জেলায় ৫ লাখ ২০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং ৩ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোসা. আরজু আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মুস্তারী এবং আইএমইডি’র মহাপরিচালক ডক্টর আলম আমিন সরকার। স্বাগত বক্তৃতা করেন যুগ্ম সচিব এবং আইসিবিসি প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাদির। আলোচনার সূত্রপাত করেন সিনারগোজ বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড এশা হুসেইন এবং আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামান।
সভায় সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে মতামত ব্যক্ত করেন নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, উপ-সম্পাদক শুচী সৈয়দ, সিনিয়র নিউজ এডিটর সালমা ইয়াসমিন, সিনিয়র রিপোর্টার সাইদুর রহমান রুমী, বার্তা সম্পাদক কাজল ঘোষ, মহিলা অঙ্গন সম্পাদক রাবেয়া বেবী এবং বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ শারমীন। তারা শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিভিল সোসাইটির পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এর ভাইস চেয়ার মাহমুদা আখতার, সিনারগোস বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ রিজওয়ান খান পিএমপি, সিআইপিআরপি’র গবেষক ডা. আল আমিন এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক ড. মো. আল আমিন সরকার।
অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা কার্যক্রমের সফলতা ও চ্যালেঞ্জের দিকগুলো গণমাধ্যমে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 

























