কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনানের অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনই তার মস্তিষ্ক থেকে গুলি বের করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জীবনঝুঁকি থাকায় আপাতত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে শিশুটিকে।
বুধবার হুজাইফার চিকিৎসার জন্য গঠিত ৯ সদস্যের বিশেষ মেডিকেল বোর্ড এক জরুরি বৈঠক শেষে এ তথ্য জানায়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শিশুটিকে চট্টগ্রাম থেকে এনে এই বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে নিউরোসার্জারি ও নিউরোট্রমা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে হুজাইফার সিটি স্ক্যান ও এনজিওগ্রাম সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের ভেতরে গুলির অবস্থানের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ওই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে শিশুটির চেতনার মাত্রা (গ্লাসগো কোমা স্কেল) ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭ থেকে ৮-এ নেমে এসেছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করতে গেলে বড় ধরনের জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মেডিকেল বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা জানান, হুজাইফার মস্তিষ্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানে গুলিটি অবস্থান করছে। বর্তমানে তাকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) রেখে নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত ওষুধের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। যদি অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয় এবং চেতনার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তবেই গুলি বের করার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আশার কথা হলো, ঢাকা আনার আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। সেই অস্ত্রোপচারের কারণেই চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে এখনো আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সংঘর্ষের সময় মিয়ানমার থেকে আসা একটি গুলি তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় থাকা হুজাইফার মাথায় বিদ্ধ হয়। হুজাইফা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির ডান পাশের হাড় খুলে রাখা হয়েছে যাতে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ চাপ কমানো যায়। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সে ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























