আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সমর্থকদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
দিল্লি থেকে পাঠানো এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, যেহেতু এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক ‘নৌকা’ প্রতীক থাকছে না, তাই তাঁর দলের কোটি কোটি সমর্থক ভোট দিতে যাবেন না। তিনি এই নির্বাচনকে ‘একতরফা’ ও ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে দাবি করেছেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে আয়োজিত কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার নৈতিক বৈধতা পাবে না।
শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেখানে পছন্দের প্রতীক নৌকা নেই, সেখানে ভোটের কোনো মূল্য নেই। তিনি সমর্থকদের ঘরে থাকার এবং এই নির্বাচনকে প্রত্যাখান করার আহ্বান জানান। এই প্রথম ১৯৯১ সালের পর নৌকা প্রতীকবিহীন কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে, যা রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন।
নির্বাচন বয়কটের পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘জুলাই গণভোট’ বা ‘জুলাই চার্টার’ নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের কোনো বিধান নেই এবং কোনো নির্বাচিত সরকার ছাড়া এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করেনি, বরং তাদের পরিকল্পিতভাবে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনা অবশ্য এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যথাযথ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও দলটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৩ হাজারের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং কোনো একক দলের অনুপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করবে না। বর্তমানে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও আওয়ামী লীগের এই বয়কটের ঘোষণা এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























