ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াত জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে অস্থিরতা: শরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ফাটলের শঙ্কা

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে চরম অস্থিরতা ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জামায়াত জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অন্যতম প্রধান দুই শরিক দল-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০টি আসন রেখে বাকি ১১০টি আসন ১০টি শরিক দলের জন্য বরাদ্দের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়েই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত।

আসন নিয়ে দরকষাকষির বর্তমান চিত্র:
জোটের শরিকদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে ১০০টির বেশি আসনের দাবি তুললেও আলোচনার প্রেক্ষিতে তা কমিয়ে ৫০টিতে নামিয়ে এনেছিল। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের মাত্র ৪০টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দলটির একটি বড় অংশ চরম অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০টি আসন দিতে আগ্রহী। খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন, যদি সম্মানজনক সমঝোতা না হয়, তবে তারা যেসব আসনে ছাড় পাবেন না, সেখানে নিজস্ব প্রতীক ‘রিকশা’ নিয়ে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা করছেন।

এনসিপি ইস্যু ও জোটের অভ্যন্তরীণ সংকট:
জোটে নতুন যুক্ত হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত নীতিগতভাবে একমত হওয়ায় পুরনো শরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য শরিকদের দাবি, অনেক আগে থেকে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে কম আসন দিয়ে নতুন একটি দলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ‘কৌশলগত বিশ্বাসঘাতকতা’। এই সংকট নিরসনে আজ বুধবার আবারও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতা না হলে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে লড়াই করার ঘোষণা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত ইতোমধ্যে ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই যদি ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না হয়, তবে নির্বাচনী মাঠে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা তাদের সমন্বিত ভোটব্যাংকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে প্রতিটি উপজেলায় হচ্ছে আধুনিক পরীক্ষা কেন্দ্র

জামায়াত জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে অস্থিরতা: শরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ফাটলের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে চরম অস্থিরতা ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জামায়াত জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অন্যতম প্রধান দুই শরিক দল-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০টি আসন রেখে বাকি ১১০টি আসন ১০টি শরিক দলের জন্য বরাদ্দের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়েই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত।

আসন নিয়ে দরকষাকষির বর্তমান চিত্র:
জোটের শরিকদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে ১০০টির বেশি আসনের দাবি তুললেও আলোচনার প্রেক্ষিতে তা কমিয়ে ৫০টিতে নামিয়ে এনেছিল। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের মাত্র ৪০টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দলটির একটি বড় অংশ চরম অসন্তুষ্ট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০টি আসন দিতে আগ্রহী। খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন, যদি সম্মানজনক সমঝোতা না হয়, তবে তারা যেসব আসনে ছাড় পাবেন না, সেখানে নিজস্ব প্রতীক ‘রিকশা’ নিয়ে প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা করছেন।

এনসিপি ইস্যু ও জোটের অভ্যন্তরীণ সংকট:
জোটে নতুন যুক্ত হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত নীতিগতভাবে একমত হওয়ায় পুরনো শরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য শরিকদের দাবি, অনেক আগে থেকে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে কম আসন দিয়ে নতুন একটি দলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ‘কৌশলগত বিশ্বাসঘাতকতা’। এই সংকট নিরসনে আজ বুধবার আবারও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতা না হলে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে লড়াই করার ঘোষণা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত ইতোমধ্যে ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই যদি ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না হয়, তবে নির্বাচনী মাঠে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা তাদের সমন্বিত ভোটব্যাংকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।