ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঝালকাঠিতে সুপারির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির প্রায় প্রতিটি গ্রামেই সুপারি চাষ হয় এবং প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে বাজারে দাম কম হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাষিরা। এত কিছুর পরও জেলার প্রতিটি হাটেই সুপারি বেচাকেনার জন্য ভিন্ন স্থান নির্ধারিত থাকে, যা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

জানা যায়, জেলার ৪টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ৪৭১টি গ্রামে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কুড়ি বা ২১০টি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে। ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় আশাহত এই অঞ্চলের চাষিরা।

ঝালকাঠির ছত্রকান্দা, সিঅ্যান্ডবি বাজার, রাজাপুরের বাগড়ি, লেবুবুনিয়া, বাদুরতলা, নাপিতেরহাট, নলছিটির ভৈরবপাশা, ষাটপাকিয়া, চাকলার বাজার, মানপাশা, মোল্লারহাট, কাঠালিয়ার কৈখালী, সাতানি বাজার, আমুয়াসহ জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। এখানকার সুপারি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন চাষিরা। সেই পাইকাররা তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন।

চাষিরা বলছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে ঝুঁকি ও উৎপাদন খরচ কম। রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতারা জানান, এ বছর সুপারির উৎপাদন বেশি হওয়ায় তারা কম দামে সুপারি কিনতে পারছেন এবং ভালো লাভের আশা করছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চেষ্টা করছি সুপারির সুপরিকল্পিত চাষাবাদ করার। আমাদের অর্থনীতিতে যেন আরও অবদান রাখতে পারে, সেভাবে চাষ করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সুপারি চাষের অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে ফলন অনেক ভালো হয়েছে, যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরও উৎসাহী হচ্ছেন। সুপারি বাগান মালিকরা প্রতি বছরই সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ফলন বেশি হওয়ায় বাজারদর একটু কম। জেলায় চলতি মৌসুমে ৭০০ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। ফসলটি লাভজনক হওয়ায় তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।’

জানা গেছে, জেলার ৪৭১টি গ্রামের মধ্যে রাজাপুরের ৫৪টি গ্রামে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে, এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সুপারি কিনতে দূর-দূরান্তের পাইকাররা স্থানীয় বাজারগুলোতে ভিড় করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঝালকাঠির সুপারি ভারত, চীন, থাইল্যান্ডে রপ্তানি হয়। যশোর ও বেনাপোলের কিছু ব্যবসায়ী ঝালকাঠি থেকে সুপারি কিনে তা ভারতে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চীন ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি করেন।

সদর উপজেলার ছত্রকান্দা হাটে সুপারি বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজাপুরের বাদুরতলা, সাতুরিয়ার লেবুবুনিয়াসহ জেলার ৮৯টি সাপ্তাহিক হাটে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে শত শত কৃষক ও পাইকার ভিড় জমাচ্ছেন। সেখানে কোটি কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হচ্ছে।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজাপুর উপজেলার ৫৪টি গ্রামের ৩০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সুপারির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকে আবার বাড়ির পাশে সুপারি গাছ লাগিয়েও ভালো ফলন পেয়েছেন। গত এক যুগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারির দাম ভালো না থাকায় সুপারি বাগান মালিকরা হতাশায় ভুগছেন।

বাজারগুলোয় স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী প্রতি কুড়ি (২১০টি সুপারিতে এক কুড়ি) সুপারি ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুরের সুপারির সুখ্যাতি থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে বড় জাতের সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

রাজাপুরের চাড়াখালীর সুপারি বাগান মালিক কিসমত ফরাজী বলেন, ‘গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর ফলন হয়েছে তিনগুণ। সুপারির আকারও হয়েছে অনেক বড়। দাম কম হলেও এ বছর আমি লক্ষাধিক টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’

একই গ্রামের রাসেল ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ২ একর জমিতে সুপারি বাগান আছে। এ বছর বৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। কোনো পোকার আক্রমণও নেই। এরই মধ্যে ২ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছি। বাগানে আরও সুপারি আছে। বর্তমানে যে বাজারদর চলছে, তা সন্তোষজনক নয়। প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর দাম তুলনামূলক অনেক কম।’

রাজাপুরের বাঘরি বাজারে ভ্যানগাড়িতে করে সুপারি নিয়ে আসা হাসান জানান, এক ভ্যানগাড়ি সুপারি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এগুলো পাইকাররা কিনে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি করেন।

চট্টগ্রাম থেকে সুপারি কিনতে আসা পাইকার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আড়তে সুপারির আকার নির্ধারণ করে বড় সাইজগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য মজুত করি এবং অন্য সুপারি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান করছি।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি হেফাজতে আরও এক ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু, যুদ্ধ শুরুর পর প্রাণহানি বেড়ে ৮৭

ঝালকাঠিতে সুপারির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা

আপডেট সময় : ০১:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

ঝালকাঠির প্রায় প্রতিটি গ্রামেই সুপারি চাষ হয় এবং প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে বাজারে দাম কম হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাষিরা। এত কিছুর পরও জেলার প্রতিটি হাটেই সুপারি বেচাকেনার জন্য ভিন্ন স্থান নির্ধারিত থাকে, যা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

জানা যায়, জেলার ৪টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ৪৭১টি গ্রামে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কুড়ি বা ২১০টি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে। ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় আশাহত এই অঞ্চলের চাষিরা।

ঝালকাঠির ছত্রকান্দা, সিঅ্যান্ডবি বাজার, রাজাপুরের বাগড়ি, লেবুবুনিয়া, বাদুরতলা, নাপিতেরহাট, নলছিটির ভৈরবপাশা, ষাটপাকিয়া, চাকলার বাজার, মানপাশা, মোল্লারহাট, কাঠালিয়ার কৈখালী, সাতানি বাজার, আমুয়াসহ জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। এখানকার সুপারি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন চাষিরা। সেই পাইকাররা তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন।

চাষিরা বলছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে ঝুঁকি ও উৎপাদন খরচ কম। রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতারা জানান, এ বছর সুপারির উৎপাদন বেশি হওয়ায় তারা কম দামে সুপারি কিনতে পারছেন এবং ভালো লাভের আশা করছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চেষ্টা করছি সুপারির সুপরিকল্পিত চাষাবাদ করার। আমাদের অর্থনীতিতে যেন আরও অবদান রাখতে পারে, সেভাবে চাষ করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সুপারি চাষের অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে ফলন অনেক ভালো হয়েছে, যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরও উৎসাহী হচ্ছেন। সুপারি বাগান মালিকরা প্রতি বছরই সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ফলন বেশি হওয়ায় বাজারদর একটু কম। জেলায় চলতি মৌসুমে ৭০০ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। ফসলটি লাভজনক হওয়ায় তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।’

জানা গেছে, জেলার ৪৭১টি গ্রামের মধ্যে রাজাপুরের ৫৪টি গ্রামে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে, এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সুপারি কিনতে দূর-দূরান্তের পাইকাররা স্থানীয় বাজারগুলোতে ভিড় করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঝালকাঠির সুপারি ভারত, চীন, থাইল্যান্ডে রপ্তানি হয়। যশোর ও বেনাপোলের কিছু ব্যবসায়ী ঝালকাঠি থেকে সুপারি কিনে তা ভারতে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চীন ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি করেন।

সদর উপজেলার ছত্রকান্দা হাটে সুপারি বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজাপুরের বাদুরতলা, সাতুরিয়ার লেবুবুনিয়াসহ জেলার ৮৯টি সাপ্তাহিক হাটে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে শত শত কৃষক ও পাইকার ভিড় জমাচ্ছেন। সেখানে কোটি কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হচ্ছে।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজাপুর উপজেলার ৫৪টি গ্রামের ৩০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সুপারির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকে আবার বাড়ির পাশে সুপারি গাছ লাগিয়েও ভালো ফলন পেয়েছেন। গত এক যুগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বলে দাবি করছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারির দাম ভালো না থাকায় সুপারি বাগান মালিকরা হতাশায় ভুগছেন।

বাজারগুলোয় স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী প্রতি কুড়ি (২১০টি সুপারিতে এক কুড়ি) সুপারি ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুরের সুপারির সুখ্যাতি থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে বড় জাতের সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

রাজাপুরের চাড়াখালীর সুপারি বাগান মালিক কিসমত ফরাজী বলেন, ‘গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর ফলন হয়েছে তিনগুণ। সুপারির আকারও হয়েছে অনেক বড়। দাম কম হলেও এ বছর আমি লক্ষাধিক টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’

একই গ্রামের রাসেল ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ২ একর জমিতে সুপারি বাগান আছে। এ বছর বৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। কোনো পোকার আক্রমণও নেই। এরই মধ্যে ২ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছি। বাগানে আরও সুপারি আছে। বর্তমানে যে বাজারদর চলছে, তা সন্তোষজনক নয়। প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর দাম তুলনামূলক অনেক কম।’

রাজাপুরের বাঘরি বাজারে ভ্যানগাড়িতে করে সুপারি নিয়ে আসা হাসান জানান, এক ভ্যানগাড়ি সুপারি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এগুলো পাইকাররা কিনে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি করেন।

চট্টগ্রাম থেকে সুপারি কিনতে আসা পাইকার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আড়তে সুপারির আকার নির্ধারণ করে বড় সাইজগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য মজুত করি এবং অন্য সুপারি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান করছি।’