চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। এই দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম আলী নেওয়াজের কাছে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংগঠনের নেতারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত দলগুলোর প্রার্থিতা বাতিলের জোর দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকার ছাত্র-জনতাকে নির্মূল করতে বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছে। এই আন্দোলনে ১৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও সেই গণহত্যার সহযোগী দলগুলো আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। বিশেষ করে, জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২৪৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যারা বিগত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও দুঃশাসনে প্রত্যক্ষ সমর্থন জুগিয়েছে।
জুলাই ঐক্যের নেতারা অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকরা বিদেশি প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশবিরোধী নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এই ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’কে নির্বাচনের বাইরে রাখার দাবি জানান তারা। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, যারা জুলাই-আগস্টে রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো বিচারের অপেক্ষায়। এমন পরিস্থিতিতে গণহত্যাকারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করার শামিল।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা আসীন। যারা ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচন’ সফল করতে ভূমিকা রেখেছিল, তাদের একটি অংশ আসন্ন নির্বাচনের দায়িত্বেও রয়েছে। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশদাতা অনেক ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাই ঐক্য মনে করে, এই কর্মকর্তাদের বহাল রেখে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্মারকলিপিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বিশেষ কোনো পক্ষকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের যেকোনো অপতৎপরতা বন্ধ করে নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। একইসঙ্গে প্রশাসনে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে অপসারণের অনুরোধ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























