আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির চতুর্থ দিনে দুপুর পর্যন্ত ১২টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।
শুনানির প্রথমার্ধে নিষ্পত্তি হওয়া ১২টি আপিলের মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ জন প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হয়েছে এবং একজন প্রার্থী শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণও উপস্থিত রয়েছেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তথ্যগত ত্রুটি ও আইনি জটিলতার কারণে ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন মণ্ডলের ভোটার তালিকায় গরমিল থাকায় তার আবেদন খারিজ করা হয়। নড়াইল-১ আসনে গাজী মাহাবুবুর রহমানের এক শতাংশ ভোটারের কোটা পূর্ণ না হওয়ায় এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের এস এম মুজিবুর রহমানের জমা দেওয়া ভোটার তালিকায় ভুয়া স্বাক্ষর পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া পিরোজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ৩০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে কমিশন। জামালপুর-৫ আসনের হোছনেয়ার বেগমের জমা দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় কোনো স্বাক্ষর না থাকায় তার আবেদনটিও নামঞ্জুর হয়। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৩ আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মনিরুজ্জামান শুনানির নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকায় তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, আপিল শুনানির গত তিন দিনে মোট ১৫০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের এই শুনানি কার্যক্রম চলমান থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 

























