আসন্ন ১৫তম সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে। যদি বাংলাদেশ এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের স্বাগতিক হয়, তবে প্রতিবেশী ভারতের ফুটবল দলও এখানে খেলতে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। যদিও দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা টানাপোড়েন বিদ্যমান। একইসঙ্গে, দেশের ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের তিনটি স্টেডিয়াম ফুটবল ফেডারেশনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘সাফ ছেলেদের টুর্নামেন্টটি সম্ভবত বাংলাদেশই হোস্ট করবে। আমরা খেলার উইন্ডো নিয়েও এখন পর্যালোচনা করছি। আমাদের ভিশন হলো, যদি আমরা সাফ আয়োজন করি, তাহলে খেলাটাকে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। অন্তত তিনটি ভেন্যু ব্যবহার করার পরিকল্পনা আমাদের আছে, যার মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দুটি ভেন্যু থাকবে। এতে করে সাফ জাঁকজমকপূর্ণ হবে এবং হোস্ট হিসেবে আমরা একটি ভালো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম হবো তা প্রমাণ করতে পারব।’
তবে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে সাফ খেলতে ভারত বাংলাদেশে আসবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘এটা অনেক বড় একটি প্রশ্ন, ভারত…। তবে আমি মনে করি না, ফুটবলে আমরা অন্য কোনো বিবেচনা কখনো রাখি। ফুটবলের ক্ষেত্রে গত নভেম্বরেও আমাদের প্রতিবেশী দেশ এখানে খেলে গেছে। গত মার্চে আমরাও তাদের দেশে গিয়েছিলাম খেলার জন্য। তাই আমি মনে করি না যে, অন্য কোনো আগাম কিছু বলা ফুটবলের ক্ষেত্রে সমীচীন হবে। আমি বিশ্বাস করি ফুটবল ফুটবলের মতোই চলে এবং সব খেলোয়াড় ফুটবলের সঙ্গে খেলবে।’ তিনি মনে করেন, ফুটবলের মাঠে সম্পর্ক সবসময়ই স্বাভাবিক থাকে।
এদিকে, দেশের ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের সুসংবাদ এসেছে। সম্প্রতি সংস্কার কাজ শেষে জাতীয় স্টেডিয়াম বাফুফেকে বুঝিয়ে দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি ঢাকার বাইরে সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামও এখন থেকে পুরোপুরি ফুটবলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল বাফুফে ভবন পরিদর্শনে গিয়ে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ঢাকা স্টেডিয়ামের পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামকে পুরোপুরি ফুটবলকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ তবে এক্ষেত্রে একটি শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট ব্যতীত অন্যান্য খেলার যদি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে, তবে বাফুফেকে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে।
সরকারের এমন আশ্বাসে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘সবার চেষ্টা থাকলে এবং সবাইকে নিয়ে দেশের স্বার্থে, ফুটবলের স্বার্থে আমরা আপাতত দুটি স্টেডিয়াম দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি স্টেডিয়াম আমরা পাব বলে আশা করি।’ ফুটবলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বাফুফের কর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাবিথ আউয়াল জানান, ‘আমরা মূলত আমাদের আগামী এক বছরের যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলাম, সেটা উপদেষ্টার সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম। এছাড়া সরকার যে আর্থিকভাবে এবং অবকাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে, আমরা চাই সেটা অন্তত আগামী এক বছর যেন অব্যাহত থাকে।’
রিপোর্টারের নাম 
























