ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনগণের চাপের মুখে গণভোটে রাজি হয়েও ‘তালগোল পাকাচ্ছে’ বিএনপি: ডা. তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, গণভোটের বিষয়ে জনগণের প্রবল চাপের কারণেই বিএনপি রাজি হয়েছে। তবে তারা এখন আবার বিষয়টি নিয়ে ‘তালগোল পাকাচ্ছে’। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভোটের বিষয়ে তাঁরা কোনো ধরনের জটিলতা বা ‘প্যাঁচ’ মানতে রাজি নন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।

ডা. তাহের বলেন, তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ ও সরকারের করণীয় নিয়ে আলোচনা করতেই এসেছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়ে একটি সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার পর ৮০টিরও বেশি বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন এবং সেই বিষয়গুলোকে দ্রুত আইনি ভিত্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষ করে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তাঁরা করেছেন। জামায়াতের নায়েবে আমির জানান, প্রধান উপদেষ্টাও তাঁদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে এগুলো বাস্তবায়ন না হলে আলোচনার কোনো অর্থ থাকে না।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হলে আদেশের মাধ্যমেই তা করতে হবে। এটি সংবিধানের অংশ না হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধান এমন আদেশ দিতে পারেন। তিনি আশা করেন যে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে একমত হবেন।

জামায়াত মনে করে, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন দুটি ভিন্ন বিষয় এবং আলাদা সময়ে হওয়া উচিত। ডা. তাহেরের মতে, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনের অনেক বিষয়ে পরিবর্তন আসবে, তাই নির্বাচনের আগেই গণভোট হওয়া আবশ্যক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সংস্কারের কোনো আলোচনা হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয় এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় রদবদল করার কথা বলেছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হতে হবে, প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ কে দেবেন, সে বিষয়ে তাঁরা বলেছেন যে আইনের কোনো ব্যত্যয় না ঘটলে প্রধান উপদেষ্টাই এই আদেশ দেবেন।

এ সময় নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কোরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএনপির হামলার বিষয়টি তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের আগেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় কী হবে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে কথা বলা এই মুহূর্তে ‘অপরিপক্ক’।

সবশেষে জামায়াতের নায়েবে আমির প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর (প্রধান উপদেষ্টা) আশেপাশে কিছু লোক তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে, কারণ তারা একটি দলের পক্ষে কাজ করছে। তিনি বলেন, তাঁরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তাতেও কাজ না হলে পরবর্তীতে যা যা করণীয় তাই করবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি হামলায় ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ৪০ ছাত্রী নিহত: শোকের ছায়া

জনগণের চাপের মুখে গণভোটে রাজি হয়েও ‘তালগোল পাকাচ্ছে’ বিএনপি: ডা. তাহের

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, গণভোটের বিষয়ে জনগণের প্রবল চাপের কারণেই বিএনপি রাজি হয়েছে। তবে তারা এখন আবার বিষয়টি নিয়ে ‘তালগোল পাকাচ্ছে’। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভোটের বিষয়ে তাঁরা কোনো ধরনের জটিলতা বা ‘প্যাঁচ’ মানতে রাজি নন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।

ডা. তাহের বলেন, তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ ও সরকারের করণীয় নিয়ে আলোচনা করতেই এসেছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়ে একটি সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার পর ৮০টিরও বেশি বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন এবং সেই বিষয়গুলোকে দ্রুত আইনি ভিত্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষ করে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তাঁরা করেছেন। জামায়াতের নায়েবে আমির জানান, প্রধান উপদেষ্টাও তাঁদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে এগুলো বাস্তবায়ন না হলে আলোচনার কোনো অর্থ থাকে না।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হলে আদেশের মাধ্যমেই তা করতে হবে। এটি সংবিধানের অংশ না হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধান এমন আদেশ দিতে পারেন। তিনি আশা করেন যে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে একমত হবেন।

জামায়াত মনে করে, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন দুটি ভিন্ন বিষয় এবং আলাদা সময়ে হওয়া উচিত। ডা. তাহেরের মতে, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনের অনেক বিষয়ে পরিবর্তন আসবে, তাই নির্বাচনের আগেই গণভোট হওয়া আবশ্যক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সংস্কারের কোনো আলোচনা হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয় এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় রদবদল করার কথা বলেছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হতে হবে, প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ কে দেবেন, সে বিষয়ে তাঁরা বলেছেন যে আইনের কোনো ব্যত্যয় না ঘটলে প্রধান উপদেষ্টাই এই আদেশ দেবেন।

এ সময় নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কোরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএনপির হামলার বিষয়টি তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের আগেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় কী হবে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে কথা বলা এই মুহূর্তে ‘অপরিপক্ক’।

সবশেষে জামায়াতের নায়েবে আমির প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর (প্রধান উপদেষ্টা) আশেপাশে কিছু লোক তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে, কারণ তারা একটি দলের পক্ষে কাজ করছে। তিনি বলেন, তাঁরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তাতেও কাজ না হলে পরবর্তীতে যা যা করণীয় তাই করবেন।