জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আপিল আবেদনটি চলতি সপ্তাহে চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য উঠছে। একটি অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডকে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম রবিবার (১১ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশন গত ১৫ ডিসেম্বর এই আপিল দায়ের করে। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছিল, আমৃত্যু কারাদণ্ডের শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পরই তারা এই পদক্ষেপ নেয়।
গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে দণ্ডিত করেন। এর মধ্যে একটি অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য একটি অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে, তাদের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশও দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে কথোপকথনেও তিনি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে ফাঁসিতে ঝোলানোর হুমকি দেন। এসব উসকানির ফলস্বরূপ রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এসব ঘটনায় শেখ হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে ফোনালাপে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেন। এর ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জন এবং সাভারের আশুলিয়ায় আরও ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অভিযোগেই হাসিনা-কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























