রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি (১৫) হত্যার ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের তীর তাদেরই এক সাবেক হোটেল কর্মচারীর দিকে। স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মিলন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা।
নিহত লিলি রেডিয়্যান্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের দাবি, বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের হোটেলের কর্মচারী মিলন। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং লিলির মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে সে।
লিলির বাবা ও শাহজালাল হোটেলের মালিক সজিব তালুকদার জানান, পারিবারিক কারণে তিনি হোটেল বন্ধ রেখে পরিবারসহ হবিগঞ্জের লাখাইয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাসায় তার দুই মেয়ে ছিল। হোটেল বন্ধ থাকায় যাওয়ার আগে মিলনকে বাসা থেকে খাবার দেওয়ার কথা বলে যান। তিনি খবর পান, গত শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকাল তিনটার দিকে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
সজিব তালুকদার আরও জানান, মিলন দেড়-দুই মাস আগে আবার হোটেলে কাজে যোগ দেয়। এর আগেও সে তিন-চার বছর আগে এখানে কাজ করেছিল। এ কারণে আগে থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ছিল। মিলনের বাড়ি খুলনা অঞ্চলে।
নিহতের বড় বোন শোভা জানান, হোটেল বন্ধ থাকায় মিলন তাদের বাসা থেকে খাবার নিত। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সে খাবার নিতে এলে দেরিতে আসার কারণে লিলি দরজা না খুলে দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেয়। শনিবার দুপুরে মিলন আবার আসে। শোভা বলেন, “আমি বাসা থেকে বের হলে মিলনও বের হয়। কিন্তু পরে আবারও সে বাসায় আসে।” খবর পেয়ে বাসায় ফিরে তিনি বোনকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান।
শোভার অভিযোগ, প্রথমে মিলন তার বোনের গলায় রশি পেঁচিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। পরে ধারালো বটি দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা সজিব তালুকদার খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, হোটেলটিতে ভালো বেচাকেনা হতো। মালিকসহ পরিবারের অন্য কেউ বাসায় না থাকায় এই সুযোগে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনের অন্য কারণ থাকলে তা বেরিয়ে আসবে। উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার লিলির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 

























