সোমালিয়ার ‘সোমালিল্যান্ড’ অঞ্চলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘অননুমোদিত’ সফরের ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সৌদি আরবের জেদ্দায় এক জরুরি সভার আহ্বান করেছে। আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ মুসলিম অবস্থান তৈরির চেষ্টা করা হবে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ২৩টি দেশ ইতোমধ্যে যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিতে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বৈঠক শেষে শনিবারই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তার ওই সফরের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, ইরান, ইরাক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ ও ওমানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশ রয়েছে। তারা ইসরায়েলি কর্মকর্তার এই সফরকে ফেডারেল রিপাবলিক অব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী।
জেদ্দার এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সোমালিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার দাবি জানানো এবং একটি সুসংহত ইসলামি অবস্থান তুলে ধরা। বিবৃতিতে সোমালিয়ার ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাকে সমর্থন জানানোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে আরও জোর দেওয়া হয়েছে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কূটনৈতিক নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।
ওআইসি’র এই জরুরি সভাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে, গত তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা ফোনালাপ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। সর্বশেষ গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ওআইসি অধিবেশন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বেইজিং থেকে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইসহাক দার। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। একই দিনে ইসহাক দার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আহমেদ মোহাম্মেদ আবদেলাটিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিবৃতিতে সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। বর্তমান সভা সেই পূর্ববর্তী অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা এবং ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























