ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

উপাচার্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের

পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই এবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি ও শাটডাউনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যভাগেই অনেক শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তৎকালীন উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিন তার মেয়াদকালে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। ততদিনে আরও অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। তারা বারবার আবেদন জানালেও উপাচার্য নানা টালবাহানায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করতে থাকেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত করার জন্য বোর্ড সভা শুরু করা হলেও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড সভার পরপরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে সুপারিশ অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্য তা বিলম্বিত করেন। একই সঙ্গে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার বোর্ড সভাও আয়োজন করা হয়নি।

তারা আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট নিরীক্ষায় আসা ইউজিসির কিছু কর্মকর্তার মন্তব্যকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে উপাচার্য পদোন্নতির কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করে দেন। পরবর্তীতে ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকের পর পাওয়া চিঠির ভিত্তিতে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন নয় বরং ইউজিসির নির্দেশনা ও উপাচার্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের টেলিফিল্মে দর্শকদের মন জয় করলেন রিচি সোলায়মান

উপাচার্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের

আপডেট সময় : ০৭:০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই এবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি ও শাটডাউনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যভাগেই অনেক শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তৎকালীন উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিন তার মেয়াদকালে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। ততদিনে আরও অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। তারা বারবার আবেদন জানালেও উপাচার্য নানা টালবাহানায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করতে থাকেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত করার জন্য বোর্ড সভা শুরু করা হলেও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড সভার পরপরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে সুপারিশ অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্য তা বিলম্বিত করেন। একই সঙ্গে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার বোর্ড সভাও আয়োজন করা হয়নি।

তারা আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট নিরীক্ষায় আসা ইউজিসির কিছু কর্মকর্তার মন্তব্যকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে উপাচার্য পদোন্নতির কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করে দেন। পরবর্তীতে ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকের পর পাওয়া চিঠির ভিত্তিতে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন নয় বরং ইউজিসির নির্দেশনা ও উপাচার্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।