বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ইইউর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। বুধবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ দুই দশক সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক বজায় রাখার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই পক্ষ সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই চুক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
আলোচনায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বড় ও উচ্চপর্যায়ের মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশ সফরে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে মানুষ এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে এবং জুলাই সনদের আলোকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 





















