আজ বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬; সীমান্ত ট্র্যাজেডির এক কালো অধ্যায় কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় ফেলানী। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারের ওপর ঝুলে থাকা তার লাশের ছবি বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তুলেছিল সমালোচনার ঝড়। কিন্তু পনেরো বছর পার হলেও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতায় আজও ন্যায়বিচার পাননি ফেলানীর বাবা-মা। ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনটি ঝুলে থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন নিভৃত গ্রামের এই অসহায় দম্পতি।
পরিবারের অভাব ঘোচাতে সপরিবারে ভারতে পাড়ি জমানো নূর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির বড় সন্তান ছিল ফেলানী। বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার সময় দালালের সহায়তায় কাঁটাতারের বেড়া পার হতে গিয়ে বিএসএফের ট্রিগারে প্রাণ হারায় সে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৩ সালে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হলেও দুই দফায় অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এই প্রহসনের বিচারের পর ২০১৫ সালে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’-এর সহায়তায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন ফেলানীর বাবা। তবে বারবার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। ফেলানীর মা জাহানারা বেগম আজও অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি আসলে বুক ফেটে কান্না আসে। ঘাতকের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে না।”
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফেলানী হত্যার বিচার কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি সীমান্ত হত্যা বন্ধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হতে পারে। কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম জানান, ভারতের উচ্চ আদালতে এই পিটিশনের নিষ্পত্তি হলে এবং অভিযুক্তের সাজা নিশ্চিত হলে বিএসএফ সদস্যরা ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করতে সাহস পাবে না। এতে করে দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ১৫ বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় থাকা নূর ইসলাম এখনো বিশ্বাস করেন, কোনো একদিন হয়তো বিচার পাবেন। তবে সীমান্তবাসীর প্রশ্ন—আর কত বছর অপেক্ষা করলে মিলবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায়?
রিপোর্টারের নাম 

























