দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির প্রেক্ষাপটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে সরকার। গত সোমবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় সংশোধিত এডিপির (আরএডিপি) আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে দুই লাখ কোটি টাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় এটি অনুমোদনের কথা রয়েছে। এবারের সংশোধিত বাজেটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাত। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ কমানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব জানান, অনেক প্রকল্পের কার্যকারিতা অভাব এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের বড় কিছু কর্মসূচি বাতিল করে প্রকল্প আকারে নেওয়ার সিদ্ধান্তে এই বিশাল কাটছাঁট হয়েছে। পরিবহন ও অবকাঠামো খাতের মেগা প্রকল্পগুলোতেও বরাদ্দের বড় অংশ কমেছে। মেট্রো রেল লাইন-১ প্রকল্পে বরাদ্দ ৯১ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন প্রকল্পে প্রায় ৯৮ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দও এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মাঝেও পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে ৮ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মানবসম্পদ উন্নয়নমুখী খাতে বরাদ্দ কমানোকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বৈষম্যবিরোধী এই সময়ে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। রাজস্ব সংকট, বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ের বিলম্ব এবং রিজার্ভের ওপর চাপের কারণে সরকার উন্নয়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























