ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ: গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

গুম কমিশন তার প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। গতকাল সোমবার গুলশানে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি জানান, কমিশন বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্তকরণ, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন।

এ ছাড়া রয়েছে সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল। এ ছাড়া সুপারিশ করা হয়েছে সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর সংবাদ সম্মেলনে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতিসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আগের সরকারের সময়ের গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গত রবিবার। এরপর গতকাল এই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিশন প্রধান।

তিনি বলেন, কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র‌্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই ব্যাপক হারে গুম করেছে। বহু ক্ষেত্রে সাদা পোশাকধারী বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর ধরন থেকে এটি স্পষ্ট যে, গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন সময়ে ‘অপব্যবহার’ করার কথা তুলে ধরে আইন-শৃঙ্খলা ও বেসামরিক  গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে গুমসংক্রান্ত কমিশন।

আগের সরকারগুলো এবং ‘সদ্যোবিদায়ি’ সরকার, সবাই তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে ‘সদ্যোবিদায়ি’ সরকার অনেক বেশি করেছে। সে প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এ কমিশনের প্রধান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার করতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘নাক গলায়’, কারণ তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়।

তাদের অপব্যবহার করা হয়েছে। এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল? বা মিডিয়া হাউস দখল করা কি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের কাজ? তাদের নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন,  ‘পুলিশের কাজ হচ্ছে দেশের ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে কমিশন প্রধান বলেন, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাঁদের শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ সম্ভাব্য সব রকম বিষয়ে কমিশন সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে এই কাজে যুক্ত করা হয়। তদন্তে মোট ৪০টি ‘ডিটেনশন সেন্টার’ (বন্দিশালা) পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে র‌্যাবের ২২ থেকে ২৩টি রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং: জনজীবনে চরম নাভিশ্বাস

র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ: গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৪:২১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

গুম কমিশন তার প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। গতকাল সোমবার গুলশানে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি জানান, কমিশন বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্তকরণ, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন।

এ ছাড়া রয়েছে সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল। এ ছাড়া সুপারিশ করা হয়েছে সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর সংবাদ সম্মেলনে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতিসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আগের সরকারের সময়ের গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গত রবিবার। এরপর গতকাল এই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিশন প্রধান।

তিনি বলেন, কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র‌্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই ব্যাপক হারে গুম করেছে। বহু ক্ষেত্রে সাদা পোশাকধারী বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর ধরন থেকে এটি স্পষ্ট যে, গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন সময়ে ‘অপব্যবহার’ করার কথা তুলে ধরে আইন-শৃঙ্খলা ও বেসামরিক  গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে গুমসংক্রান্ত কমিশন।

আগের সরকারগুলো এবং ‘সদ্যোবিদায়ি’ সরকার, সবাই তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে ‘সদ্যোবিদায়ি’ সরকার অনেক বেশি করেছে। সে প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এ কমিশনের প্রধান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার করতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘নাক গলায়’, কারণ তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়।

তাদের অপব্যবহার করা হয়েছে। এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল? বা মিডিয়া হাউস দখল করা কি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইয়ের কাজ? তাদের নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন,  ‘পুলিশের কাজ হচ্ছে দেশের ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে কমিশন প্রধান বলেন, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাঁদের শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ সম্ভাব্য সব রকম বিষয়ে কমিশন সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে এই কাজে যুক্ত করা হয়। তদন্তে মোট ৪০টি ‘ডিটেনশন সেন্টার’ (বন্দিশালা) পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে র‌্যাবের ২২ থেকে ২৩টি রয়েছে।