বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিলেও তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর পথ এখনো নিশ্চিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো তৎপরতা চালালেও এবং গত এক বছরে কাতার, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও তার ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য। উল্টো রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
[Image reflecting the complex situation at the Myanmar border with Rohingya camps and security forces]
বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদ এবং টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত অঞ্চল মাদক চোরাচালান ও অস্ত্র বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো অসহায় রোহিঙ্গা যুবকদের মাদক পাচারের নেটওয়ার্কে ব্যবহার করছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার চলমান ভয়াবহ সংঘাত। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলাগুলোতে, যেখানে গোলার শব্দ আর প্রাণহানি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নাফ নদ বর্তমানে জেলেদের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা সীমান্তের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এদিকে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে আরাকান আর্মির জন্য ‘করিডর’ তৈরির প্রস্তাব নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক ও সশস্ত্র বাহিনীর তীব্র বিরোধিতার মুখে সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। বর্তমানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনেকটা থমকে আছে। এমতাবস্থায়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত নতুন নির্বাচিত সরকার এই বহুমাত্রিক ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রিপোর্টারের নাম 

























