জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে এই প্রথম জকসু নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে জগন্নাথ কলেজ থাকাকালীন ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। প্রথম জকসু নির্বাচন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট দিয়ে পাস কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষে ৬টি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষে ভোটার শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। ভোট দেওয়া শেষে তারা ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন।
এদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন ব্যাংক গেট ও পোগোজ স্কুল গেট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে বসবাসরত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের ভোট চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরু থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভেতরে মেডিক্যাল টিম অবস্থান করবে। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত নন— এমন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দাবির মুখে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























