ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুই শিশু অপহরণ ও হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মুক্তিপণের দাবিতে দুই সহোদর শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে আদালত ৫ জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ নারীসহ ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক হাকিম মো. ওসমান গণির আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেন টিটু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর শুক্কুর, আলমগীর হোসেন প্রকাশ বুলু, মিজানুর রহমান এবং মো. শহীদুল্লাহ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: একই এলাকার আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা বেগম এবং লায়লা বেগম।

হত্যার শিকার দুই শিশু হলো মো. হাসান ওরফে শাকিল (১১) ও মো. হোসেন ওরফে কাজল (৮)। তারা একই এলাকার মো. ফোরকান ওরফে মিন্টুর ছেলে। হাসান বাইশাঁরী শাহনূর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার এবং হোসেন বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকালে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দোকান কর্মচারী মো. ফোরকানের দুই ছেলে হাসান শাকিল ও হোসেন কাজল বাড়ির কাছে খেলার সময় জাহাঙ্গীর আলমসহ একটি চক্র পাখির ছানা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের অপহরণ করে। অপহরণের পর ওই দিন রাতে চক্রটি মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতদের সন্ধান না পেয়ে শিশুদের বাবা ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী স্থানীয় একটি পাহাড়ের জঙ্গল থেকে গুম করে রাখা অবস্থায় ওই দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টিটু আরও বলেন, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ২০১৯ সালের ২০ মার্চ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

তিনি জানান, ৯ বছর ধরে এই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষী-প্রমাণসহ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাদের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য দণ্ডিতরা পলাতক রয়েছেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় মোকারমা সুলতানা পুতু নামে এক তরুণীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

দুই শিশু অপহরণ ও হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মুক্তিপণের দাবিতে দুই সহোদর শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে আদালত ৫ জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ নারীসহ ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক হাকিম মো. ওসমান গণির আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেন টিটু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর শুক্কুর, আলমগীর হোসেন প্রকাশ বুলু, মিজানুর রহমান এবং মো. শহীদুল্লাহ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: একই এলাকার আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা বেগম এবং লায়লা বেগম।

হত্যার শিকার দুই শিশু হলো মো. হাসান ওরফে শাকিল (১১) ও মো. হোসেন ওরফে কাজল (৮)। তারা একই এলাকার মো. ফোরকান ওরফে মিন্টুর ছেলে। হাসান বাইশাঁরী শাহনূর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার এবং হোসেন বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকালে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দোকান কর্মচারী মো. ফোরকানের দুই ছেলে হাসান শাকিল ও হোসেন কাজল বাড়ির কাছে খেলার সময় জাহাঙ্গীর আলমসহ একটি চক্র পাখির ছানা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের অপহরণ করে। অপহরণের পর ওই দিন রাতে চক্রটি মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতদের সন্ধান না পেয়ে শিশুদের বাবা ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী স্থানীয় একটি পাহাড়ের জঙ্গল থেকে গুম করে রাখা অবস্থায় ওই দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টিটু আরও বলেন, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ২০১৯ সালের ২০ মার্চ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

তিনি জানান, ৯ বছর ধরে এই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষী-প্রমাণসহ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাদের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য দণ্ডিতরা পলাতক রয়েছেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় মোকারমা সুলতানা পুতু নামে এক তরুণীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।