ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি বন্ধ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ডেনমার্কের কোনও অঞ্চল দখলের অধিকার ওয়াশিংটনের নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ফ্রেডরিকসন বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে অনুরোধ করছি, ডেনমার্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কিংবা ভিন্ন দেশ এবং সেদেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া যেন বন্ধ করে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, গ্রিনল্যান্ড কিংবা অন্য কোনও দ্বীপই বিক্রয়ের জন্য নয়।” তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও ফারো দ্বীপপুঞ্জ একই রাষ্ট্রের সার্বভৌম অংশ।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বলে যে ধারণা মার্কিনিরা বিশ্বাস করেন, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার এই মন্তব্যের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতি ডানপন্থি রিপাবলিকান রাজনীতিক কেটি মিলারের একটি পোস্টও প্রভাব ফেলেছে, যেখানে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন পতাকার রঙে দেখানো হয়েছিল। এটি ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদি মন্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে কথা বলার সময় ট্রাম্প পুনরায় বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং তিনি ডেনমার্কের আর্কটিক অঞ্চল পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ডেনমার্ক জানিয়েছে, তাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকারের সুযোগ দেয় এবং তারা আর্কটিক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। ওয়াশিংটনে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতও যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দুই দেশই ন্যাটো মিত্র। তিনি এই মৈত্রী এবং ডেনমার্কের ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প আগেও বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের উল্লেখ করে তা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্ব-শাসন উপভোগ করছে, তবে প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি এখনও ডেনমার্কের অধীনে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিপক্ষে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুনরায় সরকারি ছুটি ঘোষিত হলো ৭ নভেম্বর: মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি বন্ধ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ডেনমার্কের কোনও অঞ্চল দখলের অধিকার ওয়াশিংটনের নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ফ্রেডরিকসন বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে অনুরোধ করছি, ডেনমার্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কিংবা ভিন্ন দেশ এবং সেদেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া যেন বন্ধ করে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, গ্রিনল্যান্ড কিংবা অন্য কোনও দ্বীপই বিক্রয়ের জন্য নয়।” তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও ফারো দ্বীপপুঞ্জ একই রাষ্ট্রের সার্বভৌম অংশ।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বলে যে ধারণা মার্কিনিরা বিশ্বাস করেন, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার এই মন্তব্যের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতি ডানপন্থি রিপাবলিকান রাজনীতিক কেটি মিলারের একটি পোস্টও প্রভাব ফেলেছে, যেখানে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন পতাকার রঙে দেখানো হয়েছিল। এটি ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদি মন্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে কথা বলার সময় ট্রাম্প পুনরায় বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং তিনি ডেনমার্কের আর্কটিক অঞ্চল পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ডেনমার্ক জানিয়েছে, তাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকারের সুযোগ দেয় এবং তারা আর্কটিক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। ওয়াশিংটনে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতও যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দুই দেশই ন্যাটো মিত্র। তিনি এই মৈত্রী এবং ডেনমার্কের ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প আগেও বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের উল্লেখ করে তা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্ব-শাসন উপভোগ করছে, তবে প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি এখনও ডেনমার্কের অধীনে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিপক্ষে।