অনলাইনে হয়রানির শিকার হতেন ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাখোঁ। প্যারিসের একটি আদালত হয়রানি করা এমন ১০ জনকে শনাক্ত করেছে। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নানা বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করা হয়; এমনকি ‘ফার্স্ট লেডি পুরুষ’— এমন মন্তব্যও করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব বলা হয়।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিজিত ম্যাখোঁকে অনলাইনে হয়রানি করাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও দু’জন নারী। তাদের বয়স ৪১ থেকে ৬০-এর মধ্যে। হয়রানিকারীদের মধ্যে রয়েছে স্কুলের স্পোর্টস টিচারও। এছাড়া একজন আর্ট গ্যালারির মালিক ও একজন প্রকাশক।
হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্যারিসের একটি আদালত ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আট মাসের জেলও।
অভিযুক্ত একজন হয়রানিকারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত কয়েকজনকে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গার্ডিয়ান বলছে, ব্রিজিত ম্যাখোঁর লিঙ্গ ও যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন বিদ্বেষপূর্ণ কমেন্ট ও পোস্ট করেছিলেন অভিযুক্তরা। অনেকে বলেছিলেন, ব্রিজিত পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন। এছাড়া অনেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে ব্রিজিতের বয়সের পার্থক্য নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।
‘ব্রিজিত ম্যাখোঁ একজন পুরুষ ও তার নাম জিয়েন-মিচেল ট্রোগনিউ’— এমন দাবি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে মামলাও করেছেন। মানহানির সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে কনজারভেটিভ পডকস্টার কানডেস ওয়েনসকে। এই পডকাস্টটি বিভিন্ন সময় ব্রিজিতের লিঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে করা মামলায় বলা হয়, ব্রিজিত পুরুষ এমন দাবি মিথ্যে। জিয়েন-মিচেল ট্রোগনিউ ব্রিজিতের বড় ভাইয়ের নাম। ৮০ বছর বয়সী ট্রোগনিউ ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের শহর এমিয়েনসে বসবাস করেন। ব্রিজিতের পরিবার সেখানেই বসবাস করতো। চকলেট ব্যবসার জন্য পরিবারটি জনপ্রিয়।
বয়সের পার্থক্যের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই কটাক্ষের শিকার হয়ে আসছেন ম্যাখোঁ দম্পতি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট থেকে তার স্ত্রী ২৪ বছরের বড়। এমনকি মাধ্যমিকে ইমানুয়েলের শিক্ষকও ছিলেন ব্রিজিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েনস রাজ্যের আদালতে করা মানহানি মামলায় ইমানুয়েল দাবি করেন, ‘‘স্কুলে থিয়েটার প্রোগ্রামের সময়কালে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার স্ত্রীর গভীর সম্পর্ক হয়। তবে, সেই সম্পর্ক আইনকে অমান্য করেনি।’’
ব্রিজিতের প্রথম সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ২০০৬ সালে তার সংসার ভাঙে। আর এরপরের বছরই ইমানুয়েলকে বিয়ে করেন ব্রিজিত। তখন ইমানুয়েলের বয়স ছিল ৩০ বছর।
ব্রিজিতের ৪১ বছর বয়সী আইনজীবী মেয়ে তিপহানি আঁজুয়েরে আদালতকে বলেন, ফরাসি ফার্স্ট লেডি একজন পুরুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছিল এমন মিথ্যা দাবিগুলো তার মায়ের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলে তিনি প্রতিদিন নিজের পরিধান করা পোশাক এবং কীভাবে দাঁড়াতে হবে তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন।
এই নারী আরও বলেন, সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের বিদ্বেষপূর্ণ পোস্টের জন্য ব্রিজিতের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়।
রায়ের আগের রাতে ব্রিজিত টিএফ১ নামে গণমাধ্যমকে বলেন, “রায় যা আসুক আমি লড়ে যাবো। মানুষেরা আমার পরিবারের স্তম্ভ নিয়ে খেলছে, দাবি করছে, আমি পুরুষ।”
হয়ারানিকারীরা ব্রিজিতের নারী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নথিকেও বিশ্বাস করছে না দাবি করে এই নারী বলেন, ‘‘জন্ম নিবন্ধন কিছুই না। একজন মা বা বাবা তারা সন্তানকে পরিচিত করে, সে নারী না পুরুষ।’’
রিপোর্টারের নাম 






















