কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি ও মাদক পাচারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এসব বক্তব্যকে অপবাদ বলে আখ্যা দেন। ফরাসি বার্তা এজেন্সি এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়াও ভীষণ অসুস্থ একটি দেশ যা একজন অসুস্থ মানুষের দ্বারা পরিচালিত। ট্রাম্প দাবি করেন, পেত্রো কোকেন উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। তার দেশে কোকেন মিল ও কোকেন কারখানা রয়েছে এবং এই কার্যক্রম আর বেশি দিন চলবে না।
এর আগে শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক আকস্মিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে বন্দি করেছে। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে ভেনেজুয়েলার। এই অভিযানের পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।
ভেনেজুয়েলার মতো কলম্বিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার কাছে কলম্বিয়ায় হামলার ব্যাপারটি শুনে ভালোই মনে হচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, “এটা শুনতে ভালো লাগে কারণ ওরা অনেক মানুষকে হত্যা করে।”
এর জবাবে পেত্রো বলেন, তার নাম কোনও আদালতের নথিতে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “আমাকে অপবাদ দেওয়া বন্ধ করুন, মিস্টার ট্রাম্প। সশস্ত্র সংগ্রাম ও কলম্বিয়ার জনগণের শান্তির লড়াই থেকে উঠে আসা কোনও লাতিন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে এভাবে হুমকি দেওয়া যায় না।”
পেত্রো ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কোনও আইনি ভিত্তি ছাড়াই মাদুরোকে অপহরণ করেছে”। পরে আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বন্ধুরা কখনও বোমাবর্ষণ করে না।”
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের হুমকিকে অন্যায্য হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছে।
কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক মিত্র হলেও সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে শুল্কনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















