ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হচ্ছে না’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

এই সরকারের আমলে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “না, এই সরকারের সময় চালু করতে পারবো না। থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য আমাদের চেষ্টা ছিল। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জাপানিজ ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমরা দর-কষাকষি করেছি। চেষ্টা করেছি কিন্তু  সফল হইনি।” 

তিনি আরও বলেন, ‘‘এর যে পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলো রয়েছে পরবর্তী কর্মকাণ্ডের জন্য, সেই পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলোকে আমরা সচল করার জন্য বর্তমানে নিয়োজিত আছি। পরবর্তী সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’’ 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গরূপে টার্মিনালটি চালুর প্রতিশ্রুতি দেয় তৎকালীন সরকার। তবে ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে যায়। 

মোট প্রকল্প খরচের মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি অর্থ এসেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ থেকে। 

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ফ্লোর স্পেস দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেকইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। 

টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে। যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে দুই কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি চেয়ারম্যান পদ থেকে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে অব্যাহতি, ভারপ্রাপ্ত ছিদ্দিকুর রহমান

‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হচ্ছে না’

আপডেট সময় : ০৮:০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

এই সরকারের আমলে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “না, এই সরকারের সময় চালু করতে পারবো না। থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য আমাদের চেষ্টা ছিল। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জাপানিজ ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমরা দর-কষাকষি করেছি। চেষ্টা করেছি কিন্তু  সফল হইনি।” 

তিনি আরও বলেন, ‘‘এর যে পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলো রয়েছে পরবর্তী কর্মকাণ্ডের জন্য, সেই পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলোকে আমরা সচল করার জন্য বর্তমানে নিয়োজিত আছি। পরবর্তী সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’’ 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গরূপে টার্মিনালটি চালুর প্রতিশ্রুতি দেয় তৎকালীন সরকার। তবে ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে বিলম্ব এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে যায়। 

মোট প্রকল্প খরচের মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি অর্থ এসেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ থেকে। 

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ফ্লোর স্পেস দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেকইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। 

টার্মিনালটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে। যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে দুই কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে।