ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ায় ওয়াশিংটনের প্রতি তুলনামূলক নরম অবস্থান দেখাতে শুরু করেছে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যৌথ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সহযোগিতার একটি সনদের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “আমাদের জনগণ ও আমাদের অঞ্চল যুদ্ধ নয়, শান্তি ও সংলাপের মধ্য দিয়ে সামনে এগোতে চায়। এটাই তাদের প্রতি ন্যায্যতা।” যদিও এর আগে তিনি এই অভিযানকে অবৈধ বলে নিন্দা করেছিলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরোর সস্ত্রীক আটককে আগে ‘অপহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও এখন তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক আশা করে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা যদি তাদের তেল খাতকে বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত না করে এবং মাদক পাচার বন্ধে সহযোগিতা না করে, তাহলে তিনি নতুন হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলা যা লুটে নিয়েছে, আমরা শুধু তা ফেরত নিচ্ছি। মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে দেশটির পেট্রোলিয়াম শিল্প পুনর্গঠন করবে। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং মাটি থেকে তেল উত্তোলন করবে।”
মাদুরোকে সোমবার নিউ ইয়র্কে একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বড় মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং কোকেন পরিবহণে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হতে পারে বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিতর্কিত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে অবৈধ নেতা হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তাকে তুলে নিয়ে বন্দি করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা উঠেছে ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির। একাধিক দেশ ও জাতিসংঘ এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে লাখো মানুষ দেশ ছেড়েছে। আর মাদুরোর অপসারণ দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, এমন আশঙ্কাও অনেকে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















