ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি ও কাফনের কাপড় প্রেরণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দিয়ে উড়োচিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ডাকযোগে তাঁর বাড়ির ঠিকানায় এই হুমকিবার্তা পৌঁছায়।

‘ব্যাটালিয়ন-৭১’ নামক একটি সংগঠনের আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর মুমিনুল আলম পরিচয় দিয়ে পাঠানো এই চিঠিতে শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাঁর পরিণতি সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির মতো হবে। এই নজিরবিহীন হুমকির ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

উড়োচিঠিতে শাহজাহান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে কিলিং স্কোয়াডের ২৪ ঘণ্টার নজরদারিতে রয়েছেন। নির্বাচন থেকে বিরত না থাকলে তাঁর প্রাণহানি ঘটবে—এমন আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে চিঠির সঙ্গে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড়ও পাঠানো হয়। চিঠির নিচে প্রেরক হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের স্বাক্ষর রয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে টেলিফোনে শাহজাহান চৌধুরীর খোঁজখবর নেন। তারেক রহমান তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বাচন বানচাল করতে এমন অপকৌশল নিচ্ছে। তিনি শাহজাহান চৌধুরীকে নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং দল তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

সাবেক এই হুইপ ও চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আজ রবিবার সকালেই উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের পাঠানো এই চিঠি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মানের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন হুমকিতে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকারি গানম্যান বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি আপাতত নিজস্ব ব্যক্তিগত দেহরক্ষী সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং চিঠির উৎস ও প্রেরককে শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি ও কাফনের কাপড় প্রেরণ

আপডেট সময় : ০৩:০৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দিয়ে উড়োচিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ডাকযোগে তাঁর বাড়ির ঠিকানায় এই হুমকিবার্তা পৌঁছায়।

‘ব্যাটালিয়ন-৭১’ নামক একটি সংগঠনের আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর মুমিনুল আলম পরিচয় দিয়ে পাঠানো এই চিঠিতে শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাঁর পরিণতি সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির মতো হবে। এই নজিরবিহীন হুমকির ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

উড়োচিঠিতে শাহজাহান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে কিলিং স্কোয়াডের ২৪ ঘণ্টার নজরদারিতে রয়েছেন। নির্বাচন থেকে বিরত না থাকলে তাঁর প্রাণহানি ঘটবে—এমন আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে চিঠির সঙ্গে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড়ও পাঠানো হয়। চিঠির নিচে প্রেরক হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের স্বাক্ষর রয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে টেলিফোনে শাহজাহান চৌধুরীর খোঁজখবর নেন। তারেক রহমান তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বাচন বানচাল করতে এমন অপকৌশল নিচ্ছে। তিনি শাহজাহান চৌধুরীকে নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং দল তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

সাবেক এই হুইপ ও চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আজ রবিবার সকালেই উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের পাঠানো এই চিঠি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মানের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন হুমকিতে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকারি গানম্যান বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি আপাতত নিজস্ব ব্যক্তিগত দেহরক্ষী সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং চিঠির উৎস ও প্রেরককে শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।