ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ত্রিপুরা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার: বাংলাদেশের দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধি নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পিসিজেএসএস ও ইউপিডিএফ সদস্যদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ত্রিপুরা সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স জানিয়েছে এই গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিশে সীমান্ত পার হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চোরাচালানে লিপ্ত হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ত্রিপুরার গোমতী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাত্রিকালীন সান্ধ্য আইন জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ত্রিপুরা পুলিশ বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। গোমতী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিঙ্কু লাথার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন যে বিএসএফ-এর ইনপুট অনুযায়ী পিসিজেএসএস এবং ইউপিডিএফ সদস্যরা ভারতে প্রবেশ করে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করতে পারে। এই আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ১৮৩ ধারার অধীনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতবিরোধী ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো তৎপরতা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী গোমতী জেলার করবুক মহকুমার নির্দিষ্ট সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৩০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী স্থায়ী বাসিন্দাদের মানবিক কারণে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এই বিশেষ নির্দেশনা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে যার একটি বড় অংশ বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত। গত বছরের জুনেও পিসিজেএসএস-এর ১৩ জন সদস্যকে ত্রিপুরা পুলিশ আটক করেছিল যারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তের এপারের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছে ভারত।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত

ত্রিপুরা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার: বাংলাদেশের দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধি নিয়ে সতর্কতা

আপডেট সময় : ০১:১৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পিসিজেএসএস ও ইউপিডিএফ সদস্যদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ত্রিপুরা সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স জানিয়েছে এই গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিশে সীমান্ত পার হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চোরাচালানে লিপ্ত হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ত্রিপুরার গোমতী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাত্রিকালীন সান্ধ্য আইন জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ত্রিপুরা পুলিশ বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। গোমতী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিঙ্কু লাথার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন যে বিএসএফ-এর ইনপুট অনুযায়ী পিসিজেএসএস এবং ইউপিডিএফ সদস্যরা ভারতে প্রবেশ করে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করতে পারে। এই আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ১৮৩ ধারার অধীনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতবিরোধী ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো তৎপরতা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী গোমতী জেলার করবুক মহকুমার নির্দিষ্ট সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৩০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী স্থায়ী বাসিন্দাদের মানবিক কারণে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এই বিশেষ নির্দেশনা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে যার একটি বড় অংশ বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত। গত বছরের জুনেও পিসিজেএসএস-এর ১৩ জন সদস্যকে ত্রিপুরা পুলিশ আটক করেছিল যারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তের এপারের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছে ভারত।