মার্কিন বিনিয়োগের বড় ধরনের আশ্বাস সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ গভীর কাঠামোগত ক্ষতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে নিরুৎসাহিত করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্রিসওয়েল কনসালটিংয়ের ডিরেক্টর অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মার্ক ক্রিশ্চিয়ান বলেন, “মার্কিন কোম্পানিগুলো মুনাফা এবং ন্যুনতম নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে ভেনেজুয়েলার তেলের খনিগুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে ভেনেজুয়েলার আইন সংস্কারের অপেক্ষা করবে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল মজুদ থাকলেও কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব ও জাতীয়করণের ফলে উৎপাদন ভেঙে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোর অবনতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আগামী বহু বছর উল্লেখযোগ্য উৎপাদন বৃদ্ধি বিলম্বিত হবে।
জ্বালানি কৌশলবিদ থমাস ও’ডোনেল বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তর বা মার্কিন আধিপত্যের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিরোধ উসকে দিতে পারে এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে।
বর্তমানে শেভরনই ভেনেজুয়েলায় কার্যরত একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি। এটি প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী মার্কিন রাজ্যগুলোতে রফতানি করে। কনোকোফিলিপস ও এক্সন মবিলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নানারকম আইনি জটিলতার কারণে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভেনেজুয়েলা ১৯৭০-এর দশকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতো। তবে গত বছর দেশটির গড় উৎপাদন নেমে আসে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে। বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা, জাতীয়করণ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছে। এর ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সহসাই নতুন করে আশাও দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 























