মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ফ্লোরিডার ভেনেজুয়েলান কমিউনিটিতে আনন্দের সঙ্গে অনিশ্চয়তাও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় একদিকে যেমন মাদুরোবিরোধীদের মাঝে উদযাপন শুরু হয়েছেও, তেমনি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্লোরিডায় বসবাসরত ভেনেজুয়েলান প্রবাসী রোসানা মাতেওস বলেন, “আমি সব সময় স্বপ্ন দেখতাম, ঘুম ভাঙলেই হয়তো মাদুরোর পতনের খবর শুনবো। আজ আমার স্বামী আমাকে ঘুম থেকে তুলে বললো, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মাদুরোকে বন্দি করেছে। আমি শুনে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এত বছরের কষ্টের পর আমাদের কাছে এটা অবাস্তব মনে হচ্ছিলো।”
মাদুরো অপসারণের খবরে মিয়ামির কাছের ডোরাল শহরে শত শত ভেনেজুয়েলান প্রবাসী জড়ো হয়ে উদযাপন করেন। ডোরাল যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলানদের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক বিপর্যয়, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসেন।
দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ব্রায়ান মার্কেজ বলেন, “আমরা তাদের শাসনে ভুগেছি। এটা (মাদুরোর শাসন) ছিল অপমানজনক। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, নিরাপত্তা ছিল না। আমরা শুধু ভালো একটা জীবন চেয়েছিলাম।”
তিনি এই অভিযানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”
ডোরালের ভেনেজুয়েলান রেস্তোরাঁ ও কমিউনিটি ‘এল আরেপাসো’-কে ঘিরে ভেনেজুয়েলানদের উদযাপন চলছিল। সেখানে মানুষ জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে, গাড়ির হর্ন বাজিয়ে এবং উচ্চস্বরে সংগীত বাজিয়ে উদযাপন করছিলেন। কেউ কেউ ধারণা করেন, ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ ফিরলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং বিদেশে থাকা ভেনেজুয়েলানদের একটি অংশ দেশে ফিরে যেতে পারে।
ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয় ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের ধারাবাহিকতার মধ্যেই মাদুরোর পতন ঘটলো। যদিও অনেকেই তার অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবু ওয়াশিংটনের ভূমিকা কী হবে এবং ভবিষ্যতে কে দেশ শাসন করবে—তা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 























