লাতিন আমেরিকা নিয়ে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে চীন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণ করার ঘটনার পর এমনটাই মনে করছেন চীনা বিশ্লেষক শন রেইন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
চীনা মার্কেট রিসার্চ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রেইন বলেন, “চীনকে লাতিন আমেরিকা বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতেই হবে এবং লাতিন আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি সেটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।” তিনি জানান, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক মাসে ত্রিনিদাদ ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অনেকটাই শীতল হয়ে গেছে।
রেইনের কথায়, “গত চার বছরে চীন লাতিন আমেরিকায় একটি শক্ত ভিত গড়ে তুলছিল। অনেক লাতিন আমেরিকান নেতা বলছিলেন, ‘আমরা বাইডেনকে পছন্দ করি না’, ‘আমরা ট্রাম্পের প্রথম শাসনামলও পছন্দ করিনি’, ‘আমরা চীনের বলয়ের দিকে এগোতে চাই’।”
তবে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গত ছয় মাসে দেখা গেছে, পানামা, মেক্সিকো ও ত্রিনিদাদে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমালোচনা করে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।
রেইন আরও বলেন, “এই দেশগুলো এখন আতঙ্কিত, মাদুরোর মতো তাদের নেতারাও অপহৃত বা জিম্মি হতে পারেন কি না তা নিয়ে।”
গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করলে পরবর্তী লক্ষ্য তারা নিজরাও হতে পারেন, এই আশঙ্কাই এখন তাদের তাড়া করছে। এমতাবস্থায় চীনের লাতিন আমেরিকা নীতিতে কিছু পরিবর্তন আসাই এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য ঘটনা হতে যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি করেছে। মাদুরোর প্রেসিডেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। ওয়াশিংটন তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্বাচনি জালিয়াতি এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদুরোর বিরুদ্ধে মামলা চালায় এবং পরে ২০২৫ সালে তার সরকারকে একটি বৈদেশিক সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে।
রিপোর্টারের নাম 























